স্পোর্টস ডেস্ক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
লন্ডনের রাস্তায় একসময় ক্যানসার হাসপাতালের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে ঘুরে বেড়াতেন ইমরান খান। পাশে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই তুখোড় পেসার মাইকেল হোল্ডিং। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী, মাঠের বাইরে সহযাত্রী। সেই স্মৃতি এখনো সজীব তাঁর মনে। আর সেই স্মৃতি থেকেই উঠে এসেছে গভীর দুঃখের কথা। ৭২ বছর বয়সী হোল্ডিং এখন বলছেন, ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মন খারাপ হয়। রাজনীতির পথে না গিয়েও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, একজন মানুষকে এভাবে রাখা ঠিক নয়।
২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তানের কারাগারে রয়েছেন ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবারের দাবি, বই পড়ার সুযোগ নেই, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক গাভাস্কার, কাপিল দেবসহ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি লিখে মৌলিক সুবিধা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা চেয়েছেন। প্যাট কামিন্স, ওয়াসিম আকরাম, জাভেদ মিয়াদাদ, ব্রায়ান লারাসহ আরও অনেকেই মানবিক আচরণের পক্ষে কথা বলেছেন। হোল্ডিং সেই তালিকায় যোগ দিয়েছেন।
স্পোর্টস নাও-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হোল্ডিং স্মরণ করেন, তাঁদের খেলার সম্পর্ক খুব বেশি না হলেও একদিনের ম্যাচ ও কাউন্টি ক্রিকেটে মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু আসল পরিচয় হয়েছিল মাঠের বাইরে। লন্ডনে ক্যানসার হাসপাতালের জন্য তহবিল সংগ্রহের সময় তিনি ইমরানের সঙ্গে ঘুরেছেন, সাধ্যমতো সহায়তা করেছেন। “আমি লোকটিকে চিনি। তিনি কেমন মানুষ, তা আমি জানি। এখন যা চলছে, তা দেখে খুব দুঃখ লাগে,” বলেন তিনি।
চিঠি লেখক অধিনায়কদের পক্ষে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়ে হোল্ডিং বলেন, “মানুষকে এভাবে আচরণ করা যায় না। যারা হত্যা করেছে, তাদেরও এমনভাবে রাখা হয় না। তাহলে এই মানুষটিকে কেন এমন করতে হবে?” তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইমরান খানের বৈশ্বিক পরিচিতি কি কোনো ঈর্ষার কারণ হয়ে উঠেছে? পাকিস্তানের কেউই বিশ্বজুড়ে এতটা পরিচিত নন বলে তাঁর ধারণা। সেই কারণেই এমন আচরণকে তিনি ‘অযৌক্তিক’ বলে মনে করেন।
ক্রিকেট বিশ্বে এই বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে মাইকেল আথারটনের সঙ্গে ইমরানের পুত্রদের সাক্ষাৎকারের পর। লর্ডসের টেস্টের পাশাপাশি সেই সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য ও সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। হোল্ডিংয়ের এই বক্তব্য সেই মানবিক আহ্বানকে আরও জোরালো করেছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়েও একজন মানুষ হিসেবে ইমরান খানের মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা উচিত।