স্পোর্টস ডেস্ক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
রাতের আলোয় সান্তোসের মাঠে যখন নেইমার দৌড়াতেন, তখন পুরো ব্রাজিল থমকে থাকত। সেই একই নেইমার এখন নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দলের হলুদ জার্সি আর পরবেন না তিনি। কোচ কার্লো আনচেলত্তিও সে কথা আরও স্পষ্ট করে দিলেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের মুখ হয়ে থাকা এই তারকার আন্তর্জাতিক অধ্যায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ।
২০২৬ বিশ্বকাপের পর সেলেসাও দলকে নতুন করে গড়তে চাইছেন আনচেলত্তি। তারুণ্যের ওপর জোর দিয়ে পুরনো প্রজন্মকে সরিয়ে নতুন চেহারা দিতে চাইছেন তিনি। আর সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নেইমারের ফেরার দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
সিএনএন এস্পোর্তেসের সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, ‘নিজের অসামান্য মানের কারণেই দলে থাকার পূর্ণ যোগ্যতা তার ছিল। তবে নেইমার নিজেই নিশ্চিত করেছে যে সে আর জাতীয় দলে ফিরতে চায় না। নেইমারের বিকল্প তৈরি করা কখনোই সম্ভব নয়, কারণ সে ছিল এক অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা। এক কথায়, সে একজন অপূরণীয় ফুটবলার। এমন প্রতিভা আবার খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।’
বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে এখন পুরো মনোযোগ ভবিষ্যতের দিকে সেলেসাও কোচের। আনচেলত্তি ও জাতীয় দলের পরিচালক রদ্রিগো কায়েতানো চাইছেন ২০৩০ বিশ্বকাপের আগে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে। সাম্প্রতিক স্কোয়াডেই তার ছাপ স্পষ্ট। প্রবীণদের সরিয়ে জায়গা পাচ্ছেন তরুণরা, বিশেষ করে ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়রা।
এমনকি ২০০৮ সালে জন্মানো প্রতিশ্রুতিশীল মুখদেরও নজরে রাখা হচ্ছে। আনচেলত্তি বলেন, ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এখন সময় তরুণদের পরখ করার। বয়স বড় কথা নয়, কিন্তু এখন অগ্রাধিকার পাবে তারাই।
নেইমার যুগে দল অনেক সময় তাঁর একক দক্ষতার ওপর নির্ভর করত। সেই অভ্যাস ভেঙে দলীয় শক্তি গড়তে চান আনচেলত্তি। আধুনিক ফুটবলে একজন তারকা নয়, পুরো দলের সমন্বয়ই আসল। আসন্ন অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেই দেখা যাবে এই নতুন দর্শনের শুরু। নতুন মুখদের অভিষেক হতে পারে।