Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

সেই ৯ ক্রিকেটার ‘দোষীও নন আবার নির্দোষও নন’

স্পোর্টস ডেস্ক

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সবশেষ দুই আসর নিয়ে অভিযোগের অন্ত ছিল না। ছিল ফিক্সিংয়ের অভিযোগও। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্ত কমিটি করেছিল বিসিবি। সেই কমিটির দেওয়া ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ও বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের স্বাধীন চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শালের করা অধিকতর তদন্তের পর বিপিএলের সবশেষ আসরের নিলামে ৯ ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের আসরে তারা ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, অভিযোগ ছিলও এমনই। তবে সেই ৯ ক্রিকেটারকে নিয়ে আজ অ্যালেক্স মার্শাল ও বিসিবির আইনজীবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দোষীও নন, আবার নির্দোষও নন। 

নিলামে খেলোয়াড় তালিকায় না থাকা অভিযুক্ত ৯ ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন ২০২৫ বিপিএলের দুর্দান্ত রাজশাহীর এনামুল হক, শফিউল ইসলাম, সানজামুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান, ঢাকা ক্যাপিটালসের মোসাদ্দেক হোসেন ও আলাউদ্দিন বাবু এবং সিলেট স্ট্রাইকার্সের আরিফুল হক ও নিহাদুজ্জামান। বিপিএলের নিলামে না থাকলেও তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন। মোসাদ্দেক সৈকত জাতীয় দলেও ডাক পেয়েছেন। 

সেই ৯ ক্রিকেটারের বিষয়ে ওঠা অভিযোগ নিয়ে জানা যাচ্ছিল না কিছুই। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল সুস্পষ্ট কোনো জবাব দেননি। এমনকি বিসিবির আইনজীবিও দেননি কোনো সদুত্তর। বিসিবির আইনজীবি ও ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল কাউন্সিলর ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমানের কথায়ও, ‘তারা দোষীও নয়, আবার নির্দোষও নয়।’

তিনি ব্যাখ্যায় আরও যোগ করেন, ‘শুধু খেলোয়াড়ই নন, আরও অনেকের নাম ছিল। এই ৯ খেলোয়াড়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেখানে বিদেশি খেলোয়াড়ের নামও ছিল।...স্বাধীন তদন্ত কমিটি কিছু ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করে দিয়েছিল।’

এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে মার্শাল বলেন, ‘১২তম বিপিএলের ড্রাফটের কয়েক দিন আগে আমাকে ৯০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে অনেক মানুষের বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য ছিল। বিদেশি খেলোয়াড়, স্থানীয় খেলোয়াড়, খেলোয়াড় নন- ছিলেন এমন ব্যক্তিরাও। আমি তখনকার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে পরামর্শ দিয়েছিলাম, আমাদের হাতে যে তথ্য এসেছে, আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখার সময় এই বিপিএলে তাঁদের আমন্ত্রণ না জানানোই হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’

সেই ৯ ক্রিকেটারকে কেনো গত আসরের নিলামে রাখা হয়নি সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো উত্তর জানা যায়নি। তবে তাদেরকে হুমকি মনে হয়েছিল বলেই নিলামে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি, এমনই মনে হয়েছে মার্শালের কথায়। 

সেই ৯ ক্রিকেটারকে গত আসর থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে মার্শাল বলেন, ‘ড্রাফট হওয়ার ঠিক আগে নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমাদের হাতে এসেছিল। সেই তথ্যের মধ্যে দেশি ও বিদেশি—দুই ধরনের কয়েকজন ব্যক্তির বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য ছিল। আমি তখন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে সতর্ক করে জানাই যে, ওই প্রতিবেদনে এমন কিছু ব্যক্তির বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য রয়েছে, যারা বিপিএল-১২-এর জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হতে পারেন। তাই তারা যেন ওই ব্যক্তিদের টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়টি বিবেচনা করেন। এরপর বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল কিছু ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়।’

সেই ৯ ক্রিকেটারকে শুধু গত আসরের জপ্ন্যই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলে জানান মার্শাল। এখন আর তাদের বিপিএল খেলতে বাধা নেই।