স্পোর্টস ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
জো রুট ও জর্ডান কক্সের ফিফটিতে ভর করে ১৩০ রানের লক্ষ্য অনায়াসে টপকে গেছে ইংল্যান্ড। শনিবার এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের খেলাতেই ৮ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকেরা।
এই ৮ উইকেটের জয়ের মাধ্যমে নিজেদের ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার ঐতিহাসিক কৃতিত্ব দেখাল ইংল্যান্ড। তিন ম্যাচের এই সিরিজে যথাক্রমে হেডিংলি ও লর্ডসে অনুষ্ঠিত প্রথম দুই টেস্টেও জয় পেয়েছিল ‘থ্রি লায়ন্স’রা।
খেলার হাতে দুই দিন বাকি থাকতেই মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুটা রীতিমতো বিপর্যয় দিয়ে হয়েছিল ইংল্যান্ডের। পাকিস্তান দলের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস নিজের রোমাঞ্চকর প্রথম ওভারেই দুই ইংলিশ ওপেনার বেন ডাক্যাট ও এমিলিও গ- উভয়কেই শূন্য রানে সাজঘরে ফেরত পাঠান।
শুরুর সেই ধাক্কার পর অধিনায়ক রুট এবং কক্স একসঙ্গে দলের হাল ধরেন। উজ্জীবিত পাকিস্তান বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যাটিং চালিয় যান এই দুজন। ১০ম ওভারের শেষ বলে স্কোরবোর্ডে যখন ৩৫/২ রান, তখন এক বিশাল ব্রেক-থ্রু পেতে পারত সফরকারীরা। মোহাম্মদ আলীর বলে রুট ইনসাইড এজ হয়ে আউট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও দেখা যায় আলী ওভারস্টেপ করে নো-বল করে বসেছেন।
সেই জীবন পাওয়ার পূর্ণ সুযোগ কাজে লাগান রুট। ইংলিশ ইনিংসের ১৯তম ওভারে নিজের ক্যারিয়ারের ৬৯তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন তিনি, যা এজবাস্টন ভেন্যুতে তাঁর ব্যক্তিগত ১,০০০ টেস্ট রানের মাইলফলক স্পর্শ করতেও সাহায্য করে। অধিনায়কের পথ ধরে খুব জলদিই ফিফটির দেখা পান কক্সও। ২২তম ওভারে সাইম আইয়ুবকে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে চাবুক চার মেরে চলতি সিরিজে তথা নিজের নতুন টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ।
অবশেষে ২৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক দল। মোহাম্মদ ইমরানকে কভার দিয়ে ড্রাইভ করে একটি রান নিয়ে ইংল্যান্ডকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সেট হয়ে যাওয়া কক্স। রান তাড়ায় স্বাগতিক ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে অপরাজিত থাকেন রুট, যিনি ৬৯ বলে ৬২ রান করেন। তাঁর সঙ্গ দেওয়া কক্স শেষ পর্যন্ত ৭৬ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
পাক বোলারদের মধ্যে শেষ ইনিংসে একমাত্র সফল বোলার ছিলেন অভিজ্ঞ পেসার আব্বাস, যিনি ২টি উইকেট শিকার করেন; তবে সফরকারী দলের বাকি বোলারদের ঝুলিতে ছিল উইকেটের শূন্যতা।