স্পোর্টস ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
ম্যানচেস্টার সিটির ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা এবং তাঁর তৎকালীন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর প্যারিসের বাড়িতে হওয়া এক নৃশংস ও হিংস্র ডাকাতির ঘটনায় দুই অপরাধীকে শুক্রবারে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আক্রমণের সময় দোন্নারুম্মাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং তাঁর তৎকালীন বাগদত্তা, যিনি বর্তমানে তাঁর স্ত্রী, আলেসিয়া এলেফান্তে-র গলায় তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করা হয়। সেই মর্মান্তিক ঘটনার ট্রমার কারণে পরবর্তীতে এলেফান্তের গর্ভপাত ঘটে।
প্যারিস ক্রিমিনাল কোর্ট এই ডাকাতির মূল হোতা ২১ বছর বয়সী ইলিয়াস খেরবুশকে ৯ বছরের কারাদণ্ড এবং ৮০ হাজার ইউরো (প্রায় ৯২ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানা করেছে।
মামলার অপর আসামি মোক্তার ডি-কে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুই বছর শর্তসাপেক্ষ প্রোভেনশন মেয়াদের অধীনে স্থগিত থাকবে। প্রসিকিউটররা কারাগারের সেল থেকে এই ডাকাতির চক্রান্ত করার অভিযোগে সন্দেহ করা তৃতীয় আসামি খিয়ান এম-কে খালাস দিয়েছে আদালত।
ফরাসি রাজধানীর এক আদালতে শুনানি চলাকালীন জানানো হয়, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে মধ্য প্যারিসের এভিনিউ মন্তেইনের এক বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে ঘটা এই ভয়াবহ ঘটনার সময় ২৭ বছর বয়সী দোন্নারুম্মা এবং তাঁর সঙ্গী এলেফান্তেকে বেঁধে রেখে ছুরির মুখে ভয় দেখানো হয়েছিল।
ডাকাতির সময় ইতালিয়ান এই আন্তর্জাতিক তারকা প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর (পিএসজি) হয়ে খেলতেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে তিনি ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন। ভয়াবহ এই ডাকাতির পরিকল্পনা বা অংশ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে চার থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটররা।
সবচেয়ে কঠোর ১০ বছরের সাজা চাওয়া হয়েছিল "গানিতো" নামে পরিচিত খেরবুশের জন্য, যিনি গত মার্চ মাসে প্যারিসের উত্তরে সেন্ট-ডেনিসের ভিলপিন্টে কারাগার থেকে দুঃসাহসিক উপায়ে পালিয়ে গিয়ে কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
প্রসিকিউটররা "কিকি" নামে পরিচিত ২২ বছর বয়সী খিয়ান এম-এর জন্য নয় বছর এবং ডাকাতিতে সরাসরি অংশ নেওয়া মোক্তার ডি-এর জন্য ছয় বছরের কারাদণ্ড আবেদন করেছিলেন। খিয়ান খেরবুশের মতোই কারাগারের ভেতরে থেকে এই সহিংস ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়েছিল।
২০২৩ সালের ২১ জুলাই ভোররাতে বাড়ির ছাদ দিয়ে চারজন মুখোশধারী ডাকাত ৯ তলায় অবস্থিত তাঁদের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে পড়ে। তারা দোন্নারুম্মা ও তাঁর বাগদাত্তাকে বিছানা থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে বন্দি করে।
দোন্নারুম্মাকে শক্ত নকল গ্লাভস দিয়ে রক্তাক্ত না হওয়া পর্যন্ত পেটাতে থাকে ডাকাতেরা। "টাকা আর ঘড়ি কোথায়!" বলে চিৎকার করছিল আক্রমণকারীরা। অন্যদিকে এলেফান্তেকে একটি ফোন চার্জারের কেবল দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয় এবং পরবর্তীতে এই দম্পতিকে আলাদা করে বেঁধে ফেলা হয়।
সাতজনের একটি দল- যাদের কয়েকজনকে এখনও শনাক্ত করা যায়নি, কয়েক মিনিটের মধ্যে নগদ অর্থ, গহনা, দামী ঘড়ি এবং বিলাসবহুল ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয়। ইতালিয়ান এই ফুটবলারের হিসাব অনুযায়ী যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ ইউরোর (১.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) কাছাকাছি।
যুক্তিতর্কের শেষ পর্যায়ে প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন যে, অভিজাত এভিনিউ মন্তেইন এলাকাটি "ক্রমবর্ধমান তরুণ অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে"। তিনি ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই এলাকায় বেশ কয়েকজন তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির এমন ডাকাতির শিকার হওয়ার তালিকা তুলে ধরেন।