Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

সূর্যবংশীর উদাহরণ টেনে পিএসএলকে কাঠগড়ায় তুললেন ওয়াসিম

স্পোর্টস ডেস্ক

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ প্রজন্মের উত্থান এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুভমান গিল বা যশস্বী জয়সওয়ালদের পর এবার বৈভব সূর্যবংশী নামের এক কিশোর ব্যাটার সবাইকে চমকে দিয়েছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আইপিএলে দুই মৌসুম ধরে ঝড় তুলে তিনি সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন এবং দেশের কনিষ্ঠতম আন্তর্জাতিক অভিষেককারী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন।

এই কিশোরের উদাহরণ সামনে রেখে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রতিভা তৈরির ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আকরাম। ইউটিউবার ফুরকান ভাট্টির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, পিএসএল শুরু হওয়ার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও টুর্নামেন্ট থেকে কোনো বিশ্বমানের ব্যাটার বেরোয়নি। বোলারদের ক্ষেত্রে কিছু সাফল্য থাকলেও ব্যাটিংয়ে তেমন প্রতিভা তৈরি হয়নি। আকরাম মনে করেন, ভারতের এই ১৪-১৫ বছর বয়সী সূর্যবংশীর মতো কোনো ব্যাটিং বিস্ময় যখন পাকিস্তান উপহার দিতে পারবে, তখনই বোঝা যাবে ক্রিকেটে সত্যিকারের উন্নতি হচ্ছে।

সূর্যবংশী মার্চ ২০১১-এ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএলে খেলেন এবং ২০২৫ মৌসুমে অভিষেক করেন। ২০২৬ আইপিএলে তিনি শীর্ষ রান সংগ্রাহক হয়ে অরেঞ্জ ক্যাপ জেতেন এবং জাতীয় দলে ডাক পান। জুলাই ২০২৬-এ ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ঘটে তার। ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সে তিনি ভারতের কনিষ্ঠতম আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় হিসেবে সচিন তেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে দেন। অভিষেক ম্যাচে ১০ বলে ১৪ রান করেন, যার মধ্যে দুটি ছক্কা ছিল।

ওয়াসিম আকরাম একসময় কলকাতা নাইট রাইডার্সের মেন্টর হিসেবে দুইবার আইপিএল শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেছিলেন। তার মতে, পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের দুর্বলতা দূর করতে ক্লাব ক্রিকেট পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। লাল বলের ক্রিকেট ও পিএসএলে নতুন প্রতিভা তুলতে করাচি ও লাহোরের ক্লাব ক্রিকেটে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অন্তত ১০০ মিলিয়ন রুপি করে বিনিয়োগ করা উচিত বলে তিনি মত দিয়েছেন। কারণ সত্যিকারের প্রতিভা মাঠ পর্যায় থেকেই উঠে আসে।

এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন পাকিস্তান ইংল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বড় ধরনের সংকটে। বাবর আজমের দল প্রথম দুই টেস্টে হেরে সিরিজ হাতছাড়া করেছে। হেডিংলি ও লর্ডসে হারের পর এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্ট চলছে। সিরিজ ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডের দখলে চলে গেছে এবং পাকিস্তান আরও এক বড় হারের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।