Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

স্বৈরশাসকের সঙ্গে তুলনা, মুখ খুললেন এমবাপে

স্পোর্টস ডেস্ক

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

ফুটবল মাঠে একচ্ছত্র আধিপত্য আর দলের ওপর প্রভাবের গল্প মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন এক নতুন পরিচয় পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। টুপি মাথায়, সামরিক পোশাকে কিংবা সিংহাসনে বসে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছবিগুলোতে তাঁকে দেখানো হচ্ছে ‘স্বৈরাচারী শাসক’ হিসেবে। মিমটির নাম হয়ে উঠেছে ‘ডিক্টেটর এমবাপে’। কেউ কেউ বলছেন, তিনি শুধু ফুটবলার নন, ফুটবলেরই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক।

মিমের শুরু ঠিক কখন, তা পরিষ্কার নয়। তবে ২০২৪ সালের একটি ঘটনা এতে জোরালো ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। ফরাসি ইনফ্লুয়েন্সার ও কাবাব দোকানের মালিক মোহাম্মদ হেন্নির একটি স্যান্ডউইচের নামে এমবাপের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। এমবাপের আইনজীবীরা নাম সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। ঘটনাটি নেটে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দেয় এবং এরপর থেকেই তাঁকে ‘সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া’ চরিত্র হিসেবে উপস্থাপনের ধারা শুরু হয়।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তাঁর ক্লাব ও জাতীয় দলে প্রভাবের পুরোনো আলোচনা। ২০২২ সালে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের সঙ্গে নতুন চুক্তির সময় খবর ছড়িয়েছিল যে খেলোয়াড় কেনাবেচা, কোচ নিয়োগ কিংবা ক্রীড়া পরিচালক নিয়োগেও তাঁর মতামত গুরুত্ব পাচ্ছে। এমবাপে তখন স্পষ্ট বলেছিলেন, তিনি শুধু ফুটবলার হিসেবেই থাকতে চান। রিয়াল মাদ্রিদে যোগদানের পর এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে মিমটি আরও জোরালো হয়। মাঠে নেতৃত্ব, সতীর্থদের সঙ্গে কথাবার্তা কিংবা সাধারণ কোনো ঘটনাকেও মজা করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন সব সিদ্ধান্তই তাঁর নির্দেশে হচ্ছে।

সম্প্রতি ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপে নিজেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, মিমের একটা দিক তাঁর কাছে মজার, কারণ অনেকেই নিছক হাসি-ঠাট্টার জন্য করেন। কিন্তু ইতিহাসের ভয়াবহ স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনা করা তাঁর কাছে অস্বস্তিকর। “যারা মানুষ হত্যা করেছে, লাখো-কোটি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছে, তাদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। আমি তো জীবনে এমন কিছু করিনি,” বলেছেন তিনি।

ফ্রান্স জাতীয় দলের সতীর্থ উসমান দেম্বেলে তাঁকে ‘মোবুতু’ ডাকনাম দিয়েছেন। সাবেক জায়ারের স্বৈরশাসক মোবুতু সেসে সেকোর নাম থেকে আসা এই ডাক নিয়ে এমবাপের আপত্তি নেই। হাসতে হাসতে তিনি বলেছেন, “ও আলাদা কিছু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেয়েছে! ও তো শুধু মজা করছে।”