স্পোর্টস ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
ছুটির দিনেও মানুষের মুখে মুখে শুধু একটাই কথা, কিলিয়ান এমবাপে এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২৭ বছর বয়সেই লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে ২২ গোলে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। আর ঠিক এই অর্জনকে ভিত্তি করেই ফরাসি তারকা এবারের ব্যালন ডি’অর নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। ক্লাব বা দেশের হয়ে কোনো শিরোপা না জিতলেও তিনি মনে করছেন, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে কেউই তাঁকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।
ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে এমবাপে স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি এ বছর আমি ব্যালন ডি’অর জিততে পারি। এটা আমার অন্যতম লক্ষ্য এবং খুব কাছের ভবিষ্যতের লক্ষ্য।” অনেকেই সমালোচনা করছেন যে রিয়াল মাদ্রিদ বা ফ্রান্সের হয়ে তিনি কোনো ট্রফি তোলেননি। এমবাপে তার জবাবে বলেন, ব্যালন ডি’অর তো ব্যক্তিগত পুরস্কার। কোনো বিজয়ীকেই কখনো সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করা হয়নি। কেউই ১০০ শতাংশ ভোট পাননি, মানে সবসময়ই কেউ না কেউ মনে করেন বিজয়ী যোগ্য ছিলেন না।
গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ গোল এবং লা লিগায় ২৫ গোল করেন এমবাপে। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপে আরও ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠেন। ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে গেলেও তাঁর ব্যক্তিগত কীর্তি সবার নজর কেড়েছে। ছুটিতে থাকার সময়ও মানুষ শুধু এই রেকর্ড নিয়েই কথা বলেছে বলে জানান তিনি।
এমবাপের মতে, ব্যালন ডি’অরের ধারণা তৈরি হয়েছে মেসি-রোনালদোর যুগ থেকে। এই পুরস্কার সাধারণ খেলোয়াড়দের দেওয়া হয় না; দেওয়া হয় যারা অন্যদের থেকে আলাদা কিছু করেন। তিনি বলেন, “এ বছর আমি এমন কিছু করেছি যা অন্যদের থেকে আলাদা। তাই আমি বিশ্বাস করি আমি এটা জিততে পারি। আমার চেয়ে ভালো কোনো খেলোয়াড় ছিল না।”
বিশ্বকাপের মঞ্চে ২৭ বছর বয়সেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়াকে তিনি ক্যারিয়ারের বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে মেসির রেকর্ড ভাঙাটা তাঁর কাছে আরও অর্থবহ। “বিশ্বকাপ মানে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের মঞ্চ। সেখানে সবচেয়ে বেশি গোল করা সত্যিই অসাধারণ,” বলেন এমবাপে।
গত মঙ্গলবার ফ্রান্স ফুটবল ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে এমবাপের পাশাপাশি আছেন লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন, উসমান দেম্বেলে, লামিনে ইয়ামালসহ আরও অনেক তারকা। ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।