স্পোর্টস ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ এএম
এজবাস্টনের মাঠে যেন এক অচেনা তারকা হঠাৎ জ্বলে উঠলেন। পাকিস্তানের তরুণ পেসার মোহাম্মদ রাজাউল্লাহ টেস্ট অভিষেকেই বোলিং আর ব্যাটিং দুটোতেই এমন ছাপ রাখলেন যে সিরিজের শেষ ম্যাচ একসময় নিশ্চিত মনে হওয়া তিন দিনের ফিনিশ থেকে চতুর্থ দিনে গড়াল।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে রাজাউল্লাহ প্রথমে বল হাতে চার উইকেট তুলেছিলেন। তার প্রথম টেস্ট উইকেটই ছিল জো রুট। ইংল্যান্ড ৪৫৩ রান তোলার পর পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসেও একসময় পরিস্থিতি খারাপ দেখাচ্ছিল। আট উইকেট পড়ে গেলেও তখনও ইনিংস হারের ভয় ছিল মাত্র দুই রান পিছিয়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে নম্বর নাইনে ব্যাট হাতে নামেন ২১ বছরের এই তরুণ।
জশ টাংয়ের বলেই প্রথম ছক্কা মেরে পাকিস্তানকে ইনিংস হারের হাত থেকে বাঁচান তিনি। তারপর শুরু হয় আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। গাস অ্যাটকিনসনকে এক ওভারে তিন ছক্কা, জোফরা আর্চারকে পিছনে ঠেলে ফিফটি, সব মিলিয়ে ৬৩ বলে ৮১ রান। এর মধ্যেই নয়টি ছক্কা। মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে নবম উইকেটে ১২১ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তান পৌঁছে যায় ৪৪৯ রানে। ইংল্যান্ডের সামনে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য থাকে ১৩০ রানের লক্ষ্য।
এই ইনিংসে রাজাউল্লাহ একাধিক রেকর্ডে নাম লেখান। অভিষেকে নয় ছক্কা, এটি টিম সাউদির (২০০৮, নেপিয়ার) সঙ্গে সমান রেকর্ড। ইংল্যান্ডের মাটিতে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডেও সমান হয়েছেন বেন স্টোকসের (২০২৩ অ্যাশেজ, লর্ডস) সঙ্গে। পাকিস্তানের হয়ে অভিষেকে দ্রুততম ফিফটিও তার (৪৩ বলে)। শেষ তিন ব্যাটার মিলে এতগুলো ছক্কাও আগে দেখা যায়নি এভাবে। মজার ব্যাপার হলো, সাউদি নিজেই এখন ইংল্যান্ড দলের পরামর্শক হিসেবে এজবাস্টনে উপস্থিত ছিলেন এবং এই কীর্তির সাক্ষী হয়েছেন।
রাজাউল্লাহর আগে মাত্র আটটি ফার্স্ট-ক্লাস ম্যাচ খেলা। সিরিজের শেষ ম্যাচে হঠাৎ ডাক পেয়েও তিনি যেন পুরোপুরি মুক্তভাবে খেলেছেন। ব্যাটিং শেষে দাঁড়িয়ে থাকা করতালির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, মুহূর্তটাকে উপভোগ করেছেন।
ইংল্যান্ড ১৩০ রান তাড়া করে সিরিজ ৩-০ করার সুযোগ পাবে, আর পাকিস্তান চেষ্টা করবে এই ক্ষীণ আশাকে বাঁচিয়ে রাখতে।