Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

ওরা নিজেদের বোকা বানিয়েছে, পিসিবির উদ্দেশে বললেন ইমরান খানের ছেলে

স্পোর্টস ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

ইংল্যান্ড সফরে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা ইস্যুতে চরম নাটকীয়তার মুখে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের দুই ছেলে, সুলাইমান খান ও কাসিম খান, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কঠোর সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি স্কাই স্পোর্টসে তাঁদের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার নিয়ে পিসিবির ভূমিকার পর এই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়।

লর্ডসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালীন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল অ্যাথারটনের গ্রহণ করা একটি পূর্ব-রেকর্ডকৃত সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস। সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের ছেলেরা কারাগারে তাঁদের বাবার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিসিবি এই সাক্ষাৎকার নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় এবং এটি প্রচার বন্ধের চেষ্টা চালায়। সাক্ষাৎকারটি প্রচারের পর যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, পিসিবি প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তান দলকে মাঠে নামতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। তবে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) মধ্যস্থতায় ম্যাচটি স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত থাকে। পরবর্তীতে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম এবং তৎকালীন প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ জানান যে, টেস্ট বয়কটের কোনো বিষয়ে তাঁরা অবগত ছিলেন না, যা নির্দেশ করে আলোচনাটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল।

এবার এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সরাসরি পিসিবিকে নিশানা করেছেন কাসিম ও সুলাইমান। কাসিম বলেন, "তারা নিজেদের চরম বোকা বানিয়েছে।"

সুলাইমান জানান যে সাক্ষাৎকারের পর প্রতিক্রিয়া তিনি আশা করেছিলেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক কোনো টেস্ট ম্যাচ বন্ধের হুমকির মতো অপরিণামদর্শী আচরণ প্রত্যাশা করেননি। তিনি বলেন, "আমি কিছুটা প্রতিক্রিয়ার আশা করেছিলাম, কিন্তু তারা এতটাই অবিবেচক হবে যে মাঠে না নামার হুমকি দেবে, তা ভাবিনি। ২২ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বাস করা এবং সাবেক একজন খেলোয়াড়ের মানবিক ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা পিসিবির এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় ছিল না, এটি ছিল তাঁর শারীরিক অবস্থা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়।"

উল্লেখ্য, বিতর্কটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে কারণ মহসিন নাকভি একাধারে পিসিবির চেয়ারম্যান এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে আসা ইমরান খান বর্তমানে দেশটির অন্যতম প্রধান বিরোধী ব্যক্তিত্ব।

পিসিবির সমালোচনার পাশাপাশি ইউকে মিডিয়াকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে কারাবন্দী ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন তাঁর দুই ছেলে। কাসিম অভিযোগ করেন, "কর্তৃপক্ষ স্পষ্টতই তাঁকে ভেতরেই মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছে। তারা চায় তাঁকে নীরবে নিশ্চিহ্ন করে দিতে, যাতে ধীরে ধীরে তিনি মিলিয়ে যান। বর্তমান পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার ক্ষেত্রে এমনটি করা সহজ নয়। তাই তাদের কৌশল হলো কিছুদিন পর পর বিষয়টি স্বাভাবিক হতে দেওয়া এবং এরপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা।"

বাবার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সুলাইমান বলেন, "আমাদের শঙ্কা হচ্ছে, তারা ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবনতির খবর প্রচার করছে এবং বোঝাতে চাইছে যে তারা সাহায্য করার চেষ্টা করছে। এটি আসলে বড় কোনো দুর্ঘটনার পথ তৈরির ছক, যাতে পরে তারা হাত ধুয়ে বলতে পারে, 'তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ ছিলেন এবং মারা গেছেন, আমাদের করার কিছু ছিল না।'"

সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও তাঁকে সরকারি পিমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে কাসিম বলেন, "এটি একটি সম্পূর্ণ লোকদেখানো নাটক ছিল। শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা আমাদের ফুফুর (যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক) সাথে তাঁর অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু নির্ধারিত সব প্রস্তুতি উপেক্ষা করা হয়।" সুলাইমান এটিকে চোখধাঁধানো কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, পরিবারকে সরাসরি কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না, সবকিছুই সরকারি সুত্র থেকে প্রচারিত তথ্য মাত্র।