স্পোর্টস ডেস্ক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম শীর্ষ দল চেলসি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্লাবটি নিজেদের চেনা ছন্দে না থাকলেও তারকা কোচ শাবি আলোনসোর অধীনে পুরনো রূপে ফেরার বার্তা দিয়েছে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির আধিপত্য ভেঙে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্সেনাল। মিকেল আর্তেতার অধীনে এবার সাম্রাজ্য গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে গানাররা। ইংলিশ লিগের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে আজ মুখোমুখি এ দুই দল।
আর্তেতা এবং আলোনসোর শৈশবের বন্ধুত্ব রবিবারে হতে যাওয়া উত্তেজনাপূর্ণ লন্ডন ডার্বিতে ইতিমধ্যেই যোগ করছে এক আকর্ষণীয় মাত্রা। রবিবারে এমিরেটস স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্সেনাল ও চেলসি।
৪৪ বছর বয়সী আর্তেতা এবং আলোনসো দুজনেই স্পেনের বাস্ক অঞ্চলে একসাথে বড় হয়েছেন এবং খেলোয়াড়ি জীবন থেকে শুরু করে কোচিং ক্যারিয়ারেও তাঁদের মধ্যবর্তী ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এবার প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবারের মতো তাদের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ফুটবল দর্শন মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হতে যাচ্ছে।
আলোনসো সম্পর্কে বলতে গিয়ে আর্তেতা বলেন, "আমি সত্যিই ওর জন্য অনেক খুশি। এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য, কারণ আমাদের একসাথে থাকার যে ইতিহাস রয়েছে তা স্পষ্ট। দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি ক্লাবের দায়িত্ব নিয়ে এত উচ্চপর্যায়ে পরস্পরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়াটা সত্যিই একটি সুন্দর অভিজ্ঞতা।"
তবে ম্যাচের সমীকরণ আবেগ ধরে রাখার কোনো জায়গা রাখছে না। চলতি লিগে উভয় দলই তাদের প্রথম দুটি ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে, যার অর্থ রবিবার নিশ্চিতভাবেই কারো না কারো অপরাজিত থাকার যাত্রায় ছেদ পড়তে যাচ্ছে।
শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আর্তেতার আর্সেনাল তাদের চিরচেনা নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলে সূচনা করেছে; কভেন্ট্রি সিটিকে ৩-০ ব্যবধানে হারানোর পর অ্যাস্টন ভিলার মাঠে ১-০ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। নিজেদের শেষ সাতটি লিগ ম্যাচের ছয়টিতেই কোনো গোল হজম করেনি গানাররা। এমনকি চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত খেলা দুই ম্যাচে আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে মাত্র একটি অন-টার্গেট শটের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
অন্যদিকে চেলসি আলোনসোর অধীনে তুলনামূলক গতিশীল ও আক্রমণাত্মক পথ বেছে নিয়েছে। ফুলহ্যাম ও ব্রাইটনের বিপক্ষে জয় পাওয়া ম্যাচ দুটিতে তারা মোট সাতটি গোল করেছে; যেখানে জোয়াও পেদ্রো, কোল পামার এবং মরগান রজার্স মিলে ইতিমধ্যেই পাঁচটি গোল উপহার দিয়েছেন। তবে আক্রমণাত্মক স্বাধীনতার একটি মাশুলও দিতে হয়েছে চেলসিকে- দুই ম্যাচে মোট পাঁচটি গোল হজম করেছে তারা।
ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে চেলসির পজেশন ছিল মাত্র ২৬ শতাংশ, কিন্তু প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নেওয়ার পর দ্রুত গতিকে কাজে লাগিয়ে তারা বারবার কাউন্টার অ্যাটাকে আঘাত হেনেছে। আর্সেনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে এই হুমকি সামলানোই যে প্রধান চাবিকাঠি হবে, তা খুব ভালো করেই জানেন আর্তেতা।
আর্সেনাল যেখানে পজেশন ধরে রাখা, নিয়ন্ত্রণ এবং নিচ থেকে বিল্ড-আপ পছন্দ করে, আলোনসোর চেলসি সেখানে দ্রুত ও সরাসরি আক্রমণে যেতে ইচ্ছুক। দর্শনের এই সংঘর্ষই শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেবে কোন বন্ধু হাসিমুখে মাঠ ছাড়বেন।
এদিকে সাম্প্রতিক ইতিহাস স্পষ্টভাবে আর্তেতার দলের পক্ষেই কথা বলছে। প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে শেষ নয়টি ম্যাচে জয়হীন চেলসি, আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে আর্সেনালকে ১১টি ম্যাচে হারাতে পারেনি ব্লুজরা।
তা সত্ত্বেও নতুন বিশ্বাস ও শিরোপা জেতার লক্ষ্য নিয়ে এমিরেটসে নামছে চেলসি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠা আর্সেনালের রক্ষণভাগ এবার তাদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে।
দুই পুরনো বন্ধু, দুই অপরাজিত রেকর্ড এবং সম্পূর্ণ আলাদা দুটি ফুটবল দর্শন, রবিবার রাতে অন্তত একটি দলের নিখুঁত সূচনার সমাপ্তি ঘটতে চলেছে।