স্পোর্টস ডেস্ক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে মোহাম্মদ রিজওয়ানসহ সাতজন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া এবং প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও সহকারী কোচ উমর গুলকে বরখাস্ত করা নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের চলমান বিশৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উদ্বোধনী ব্যাটার ম্যাথিউ হেডেন। পাকিস্তান দলের সাবেক ব্যাটিং কোচ ও মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হেডেন মন্তব্য করেছেন যে, পাকিস্তান ক্রিকেটে বাস্তবে কিছুই বদলায়নি এবং সেখানকার পরিবেশ খেলোয়াড়দের জন্য সবসময়ই চরম চাপের।
'উইজডেন ক্রিকেট পডকাস্ট'-এ কথা বলতে গিয়ে হেডেন জানান, মাঠের ভেতরের চাপ তো থাকেই, তবে পাকিস্তান ক্রিকেটে মাঠের বাইরের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা খেলোয়াড়দের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, "আমি পাকিস্তানের সাথে কাজ করার সময়টা বেশ উপভোগ করেছি, কিন্তু সত্যি বলতে সেখানে কিছুই বদলায়নি। প্রেসার কুকারের মতো পরিবেশটা খেলার মাঠের জন্য মানানসই হতে পারে, তবে মাঠের বাইরে যেসব ঘটনা ঘটে, সেগুলো ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অসম্ভব করে তোলে।"
লর্ডস টেস্টে হারের পর মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী ওসমান, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল ও মোহাম্মদ ওয়াইস জাফরকে দেশে ফেরত পাঠায় পিসিবি। এর মধ্যে আমির জামাল ও ওয়াইস জাফর সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে মাঠে নামার সুযোগ না পেয়েই সফর শেষ করে ফিরে যান। হেডেন উল্লেখ করেন, পাকিস্তান দলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই এবং অ্যাথলেটিক দিক থেকে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো বিশ্বসেরা হওয়ার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা তাদের সেই প্রতিভাকে এক জায়গায় ফোকাস হতে দেয় না।
তিনি বলেন, "পাকিস্তান সবসময়ই ডার্ক হর্স, কারণ তাদের সহজাত প্রতিভা অসাধারণ। আমি বলতে চাচ্ছি, যাদের অ্যাথলেটিক সক্ষমতা দেখার মতো চোখ আছে, তারা সকলেই দেখতে পাবেন যে পাকিস্তানের মধ্যে এটি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। সমস্যা হলো, এই শক্তি কখনোই সঠিক জায়গায় মনোনিবেশ করতে পারে না, কারণ সেই মনোযোগ ধরে রাখার পরিবেশই তাদের দেওয়া হয় না। তারা সবসময় বিশৃঙ্খলার মধ্যে থাকে।"
পাকিস্তান দল তাদের পুরো সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "তারা সবসময় দুই পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর বদলে এক আঙুলে ভর দিয়ে টিকে থাকে। ফলে কোনো স্থিতিশীল ভিত্তি সেখানে তৈরি হয় না। আর আমি পাকিস্তানের সাথে যে অল্প সময় কাজ করেছি, সেখানে এই জিনিসটাই করার চেষ্টা উপভোগ করেছিলাম, সবকিছুকে একটা স্বাভাবিক ও শান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, যাতে অতটা অস্থিরতা না থাকে। তাই তাদের জন্য কাজটা সত্যিই ভীষণ কঠিন।"
সাবেক এই অজি তারকা জোর দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তানের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ ক্রিকেটারদের ভালোবাসলেও বোর্ডের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তাদের স্বাভাবিক খেলা উপহার দিতে বাধা দেয়। পাকিস্তানের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থাকে ‘দুই পায়ের বদলে এক আঙুলে দাঁড়িয়ে থাকা’-র সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, ক্রিকেট খেলতে গিয়ে দলটি কেবল নিজেরাই নিজেদের উন্নতির পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। যদি তাদের আস্থা ও স্বাধীনতার সাথে খেলতে দেওয়া হতো, তবে এই দল পৃথিবীর যেকোনো প্রতিপক্ষকে অনায়াসে হারিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখত।
তিনি বলেন, "আপনি যদি পাকিস্তানকে মুক্ত মনে ও বিশ্বাসের সাথে খেলতে দেন, এবং পাকিস্তানও যদি নিজেদের স্বাভাবিকভাবে খেলতে দেয়—তবে তারা যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দিতে পারবে। বিষয়টি অত্যন্ত সহজ, কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতোই তাদের শারীরিক ও অ্যাথলেটিক সক্ষমতা একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ের।"