স্পোর্টস ডেস্ক
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
পাকিস্তান ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে গেছে- সমালোচকদের এমন দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-এর চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। অন্যান্য শীর্ষ ক্রিকেট পরাশক্তিগুলোর অপ্রত্যাশিত হারের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পাকিস্তানের র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতিই প্রমাণ করে দেশটিতে ক্রিকেট স্তব্ধ হয়ে যায়নি।
ইংল্যান্ড সফরে টানা দুই টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রান এবং ১৯৪ রানের শোচনীয় হারের পর চারদিক থেকে ধেয়ে আসা সমালোচনার মুখে গত বুধবার লন্ডনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নাকভি। অন্যান্য দেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "দক্ষিণ আফ্রিকা নামিবিয়ার কাছে হেরেছে, ভারত হেরেছে আয়ারল্যান্ডের কাছে। অন্তত সেগুলো তো দেখুন, সেখানে কি ক্রিকেট শেষ হয়ে গেছে?"
ইংল্যান্ড সফরে ভরাডুবির পর স্কোয়াড থেকে একসাথে সাত ক্রিকেটারকে ছাঁটাই এবং কোচিং স্টাফে হঠাৎ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভক্ত ও সাবেক ক্রিকেটারদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এ বিষয়ে পিসিবির সিদ্ধান্তের সাফাই গেয়ে নাকভি জানান, কাউকে চিরতরে বাদ দেওয়া তাদের লক্ষ্য নয়, বরং অফফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের স্থলাভিষিক্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথম টেস্টে অধিনায়কত্ব করা সালমান আলী আগার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সালমান একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও ফর্মে ছিলেন না, তাই দলের স্বার্থেই পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
টেস্ট দলের পারফরম্যান্সে ঘাটতির কথা স্বীকার করলেও সাদা বলের ক্রিকেটে দলের উন্নতির চিত্র তুলে ধরেন পিসিবি প্রধান। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান অষ্টম থেকে পঞ্চম স্থানে এবং টি-টোয়েন্টিতে নবম থেকে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে। শেষ ছয়টি ওয়ানডে সিরিজের চারটিতেই জয় পাওয়ার পাশাপাশি ওয়ানডেতে জয়ের হার ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ব্যাঙ্গাত্মক সুরেই বলেন, "সবকিছুর পরও বলা হচ্ছে আমাদের ক্রিকেট নাকি শেষ!"
তবে দল নির্বাচনে যে ভুলত্রুটি হয়েছে, সে বিষয়ে দায় নিজের কাঁধে নিয়ে নাকভি জানান, ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে পুরো ক্রিকেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো অনুচিত। যেকোনো দলকে তলানি থেকে এক নম্বর পজিশনে নিয়ে যেতে তিন থেকে ছয় মাস সময় যথেষ্ট নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে বার্মিংহামের এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া শেষ টেস্টে খেলোয়াড়দের মনোবল না ভেঙে সবাইকে মাঠে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।