স্পোর্টস ডেস্ক
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
ইউরোপের বড় লিগগুলোতে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অথচ ফুটবলের আলোচনা এখনও থামেনি। কারণ বিশ্বজুড়ে এখনও এমন কিছু নামী খেলোয়াড় রয়েছেন, যাদের কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি নেই। তারা ফ্রি এজেন্ট। যেকোনো দল চাইলেই তাদের বিনা খরচে নিয়ে নিতে পারে। বিবিসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে এমন ১০ জন তারকার নাম উঠে এসেছে, যাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন জল্পনা চলছে।
১. পল পগবা (৩৩, শেষ ক্লাব: মোনাকো)
ফরাসি মিডফিল্ডার পগবা গত বছরের মার্চে ১৮ মাসের ডোপিং নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরেছিলেন। গত গ্রীষ্মে মোনাকোতে যোগ দিলেও ইনজুরিতে তিনি মাত্র ছয় ম্যাচ খেলতে পেরেছেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই গত মাসে ক্লাব তার চুক্তি বাতিল করেছে।
২. করিম বেনজেমা (৩৮, শেষ ক্লাব: আল হিলাল)
২০২৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে সৌদি আরবে যাওয়া ব্যালন ডি’অর জয়ী বেনজেমা এখনও ক্লাবহীন। আল ইত্তিহাদে তিন বছর কাটানোর পর আল হিলালে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ছয় মাস পর গত ৩১ আগস্ট তার চুক্তি শেষ করে দেওয়া হয়। নতুন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের আগমনই মূলত এর কারণ।
৩. রিয়াদ মাহরেজ (৩৫, শেষ ক্লাব: আল আহলি)
পাঁচবার প্রিমিয়ার লিগ জয়ী উইঙ্গার মাহরেজও সৌদি লিগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আল আহলিতে গিয়ে ১২২ ম্যাচে ৩৭ গোল করেছিলেন তিনি। এখন ফ্রি এজেন্ট হলেও গুঞ্জন আছে, তিনি সৌদি আরবেই থাকবেন এবং শিগগির আল-শাবাবের সঙ্গে চুক্তি করতে পারেন।
৪. রাহিম স্টার্লিং (৩১, শেষ ক্লাব: ফেইনুর্দ)
ডাচ ক্লাব ফেইনুর্দে মাত্র তিন মাস ও আট ম্যাচ খেলেই মুক্তি পেয়েছেন স্টার্লিং। গত মে মাসে গাড়ি দুর্ঘটনার পর বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের অভিযোগে আগামী মাসে তাকে আদালতে হাজির হতে হবে। ম্যান সিটি, লিভারপুল ও চেলসির সাবেক এই উইঙ্গারের গত কয়েক বছর বেশ কঠিন কেটেছে।
৫. ফিলিপ কুতিনহো (৩৪, শেষ ক্লাব: ভাস্কো দা গামা)
গত ফেব্রুয়ারিতে শৈশবের ক্লাব ভাস্কো দা গামা ছেড়েছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কুতিনহো। তিনি বলেছিলেন, মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। লিভারপুল ও বার্সেলোনার সাবেক এই তারকা এখনও অবসরের ঘোষণা দেননি। আগে এমএলএসে যাওয়ার গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল।
৬. জাডন সানচো (২৬, শেষ ক্লাব: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
২০২১ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ৭৩ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যান ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কঠিন সময় পার করছেন সানচো। গত আড়াই বছর তাকে চেলসি ও অ্যাস্টন ভিলায় ধারে খেলতে হয়েছে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ৩০ ম্যাচ খেলা এই খেলোয়াড়ের পালমেইরাসের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।
৭. দানি কারভাহাল (৩৪, শেষ ক্লাব: রিয়াল মাদ্রিদ)
নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা রাইট-ব্যাক কারভাহাল গত জুনে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর থেকে ফ্রি এজেন্ট। ১৩ বছরে ৪৫০ ম্যাচ খেলা এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এখনও নতুন ক্লাব খুঁজে পাননি। তিনি স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সুবিধা নিয়ে সতীর্থ জোসুর সঙ্গে অনুশীলন করছেন।
৮. জেমি ভার্ডি (৩৯, শেষ ক্লাব: ক্রিমোনেসে)
লেস্টার সিটিতে ১৩ বছর কাটিয়ে গত মৌসুমে ইতালির ক্রিমোনেসেতে যোগ দিয়েছিলেন ভার্ডি। ক্লাবটি সেরি বি-তে নামিয়ে দেওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রেক্সহ্যাম, শেফিল্ড ওয়েডনেসডে ও ওয়েস্ট হ্যামের মতো ইংলিশ ক্লাবগুলো তাকে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।
৯. দাভিদ আলাবা (৩৪, শেষ ক্লাব: রিয়াল মাদ্রিদ)
বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ১২টি লিগ শিরোপা ও চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা আলাবা গত মে মাসে রিয়াল ছেড়েছেন। গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তার পেছনে ছুটেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ট্রিয়ান এই ডিফেন্ডার এখনও কোনো ক্লাবে যোগ দেননি।
১০. সার্জিও রামোস (৪০, শেষ ক্লাব: মোন্তেরেই)
মেক্সিকান ক্লাব মোন্তেরেই ছাড়ার পর গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই ক্লাবহীন স্প্যানিশ কিংবদন্তি রামোস। বয়স ৪০ হয়ে গেলেও তিনি অবসরের কথা বলেননি। তিনি এখনও উচ্চ পর্যায়ে খেলার মতো ফিটনেস আছে বলে মনে করেন। চলতি বছরের শুরুতে সেভিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেটা সফল হয়নি।