স্পোর্টস ডেস্ক
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
ক্রিকেটের ইতিহাসে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে ব্যাটারের আউট হওয়া নতুন কিছু নয়। বেশিরভাগ সময়ই ব্যাটাররা ক্ষোভ বা হতাশা চেপে মাঠ ছেড়ে যান। কিন্তু ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস ও বারবাডোজ ট্রাইডেন্টসের মধ্যকার ম্যাচে ঘটেছে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত ঘটনা। মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমের দিকে চলে যাওয়া ব্যাটারকে আম্পায়াররা নিয়ম ভেঙে মাঠে ফিরিয়ে আনেন, আর শেষ পর্যন্ত সেই ব্যাটারই দুর্দান্ত ইনিংস খেলে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে মাঠ ছাড়েন।
সেন্ট কিটসের বাসেতেরেতে ২১৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে চতুর্থ ওভারে ঘটনাটি ঘটে। প্যাট্রিয়টসের উদ্বোধনী ব্যাটার জনসন চার্লস তখন ১৫ বলে ২৬ রানে ব্যাট করছিলেন। বারবাডোজ ট্রাইডেন্টসের বোলার রামোন সিমন্ডসের একটি কোমরের ওপরের হাই ফুলটস ডেলিভারিতে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। অন-ফিল্ড আম্পায়ার ক্রিস রাইট ও জাহিদ বাসারাথ সেটিকে নো-বল না ডাকায় আউট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন চার্লস।
তবে গ্যালারির দর্শক ও প্যাট্রিয়টস ম্যানেজমেন্টের তীব্র প্রতিবাদের মুখে আম্পায়াররা বিষয়টি টিভি আম্পায়ার কার্ল টাকেটের কাছে রিভিউয়ের জন্য পাঠান। রিপ্লে দেখে অন-ফিল্ড সিদ্ধান্ত বদলে নো-বল দেন থার্ড আম্পায়ার। কিন্তু তার আগেই চার্লস সীমানা দড়ির বাইরে চলে যান। ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী (আইন ৩১.৮), কোনো ব্যাটার যদি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের পর বাউন্ডারি বা মাঠের সীমানা অতিক্রম করে ফেলেন, তবে তাঁকে আর ক্রিজে ফিরিয়ে আনা যায় না।
আইনের তোয়াক্কা না করে আম্পায়াররা চার্লসকে পুনরায় ব্যাটিংয়ের জন্য ডেকে পাঠান। এই সিদ্ধান্তে মারাত্মক ক্ষুব্ধ হন বারবাডোজ ট্রাইডেন্টসের অধিনায়ক ক্রিস গ্রিন ও ক্যাচ ধরা ফিল্ডার শেরফেন রাদারফোর্ড। আম্পায়ারদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ বাদানুবাদ হলেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে।
আম্পায়ারের এই একটি ভুল সিদ্ধান্ত বারবাডোজের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ফ্রি হিটে ছক্কা হাঁকানোর পর ৪৫ বলে ৭৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন চার্লস। শেষ পর্যন্ত ৫ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস।
ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ট্রাইডেন্টস অধিনায়ক ক্রিস গ্রিন বলেন, "আজকে আম্পায়ারিং খুবই দুর্বল মানের ছিল। একজন খেলোয়াড় আউট হয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার পর তাকে যেভাবে ফিরিয়ে আনা হলো, তা টুর্নামেন্টের মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে একদমই ভালো দৃশ্য নয়। এটি নিয়ে কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সাথে ভাবা উচিত।"
বিপরীতে জয়ী দলের অধিনায়ক জেসন হোল্ডারও আম্পায়ারিংয়ের সমালোচনা না করে পারেননি। তিনি জানান, "আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও কঠোর ও সঠিক হওয়া উচিত। একজন আউট হয়ে যাওয়া ব্যাটারকে এভাবে ডেকে আনা খুব বাজে একটি নজির হয়ে রইল।" বিতর্কের সুবিধা পাওয়া ব্যাটার জনসন চার্লস অবশ্য বেশ ফুরফুরে মেজাজেই উত্তর দেন, "কিছু বিতর্ক খেলাকে আরও জমজমাট করে তোলে, বাকিটা আম্পায়ারদের ওপরই নির্ভর করে।"