Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

ইনজামাম-মিয়াঁদাদকে তো পাঠাচ্ছি না: গণছাঁটাইয়ে পিসিবিকে খোঁচা ইউসুফের

স্পোর্টস ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

পাকিস্তান ক্রিকেট যেন এক অদ্ভুত চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে। মাঠে খারাপ ফল এলেই স্কোয়াডে ঝড় তোলা, কোচ বদলানো আর অভ্যন্তরীণ বিতর্ক; এই চিত্র বারবার ফিরে আসছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে দুই ম্যাচে বড় হারের পর তৃতীয় টেস্টের আগে পিসিবি যেভাবে সাত খেলোয়াড় ও দুই কোচকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে, তাতে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এবার সেই সমালোচনায় সামিল হয়েছেন সাবেক তারকা ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফ।

ইউসুফের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। তিনি বলছেন, শুধু পারফরম্যান্সের কারণেই এমন বড় পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। কারণ বিকল্প হিসেবে জহির আব্বাস, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ইনজামাম-উল-হক বা সাঈদ আনোয়ারের মতো কিংবদন্তিদের তো পাঠানো হচ্ছে না। বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা, মতবিরোধ আর বিতর্কের সেই পুরনো চক্রেরই প্রতিফলন। ১৯৯২ বিশ্বকাপের সাফল্যের পর থেকেই এমন অস্থিরতা বারবার ফিরে এসেছে, যার ফলে দলের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে এবং মাঠের ক্রিকেট থেকে মনোযোগ সরে গেছে।

প্রথম টেস্টে ইনিংস ও দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের ব্যবধানে হারের পর সিরিজে ০-২ তে পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান। লর্ডসের ম্যাচ শেষে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আঘা, আলী উসমান, আমের জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররাম শাহজাদ। তাদের জায়গায় এসেছেন সাইম আইয়ুব, আবদুল্লাহ ফজল এবং পাঁচ অনভিষিক্ত ক্রিকেটার আরাফাত মিনহাজ, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া ও রেজাউল্লাহ। এদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত। একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় সাদা বলের দলের কোচ মাইক হেসন ও অ্যাশলে নফকেকে টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইউসুফ আরও বলেন, অতীতেও নানা রূপে এমন অস্থিরতা দেখা গেছে। প্রতিটি ঘটনাই দলের অগ্রগতি ও সমর্থকদের আস্থায় ক্ষত তৈরি করেছে। শিক্ষা একটাই—শক্তিশালী পারফরম্যান্স আর ধারাবাহিক ভালো ফলই সব শোরগোল থামাতে পারে। তাই বোর্ডরুমের বদলে মাঠের ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে হবে। সাফল্যই সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ।

এদিকে এই বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে জাতীয় নির্বাচন কমিটি থেকে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। তার পদত্যাগপত্র এখনো গ্রহণ করেনি পিসিবি। একই সঙ্গে লাহোরের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির ব্যাটিং পরামর্শকের পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

পিসিবি ইতোমধ্যে নির্বাচকদের কাছে রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হককে দলে নেওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে। সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিনই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরু থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পর্যন্ত রিজওয়ান ছিলেন টেস্টে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং সর্বোচ্চ গড়ের অধিকারী। ইমাম ঘরোয়া ক্রিকেটেও ভালো ফর্ম দেখিয়েছিলেন।

লর্ডসের হারটি ছিল গত ২০ টেস্টে পাকিস্তানের ১৫তম পরাজয়। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রেও তারা তলানিতে রয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। সিরিজ হার ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এখন শুধু হোয়াইটওয়াশ এড়িয়ে অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফেরাই পাকিস্তানের লক্ষ্য।