Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

সরকারি হস্তক্ষেপে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক স্বত্ব হারাল শ্রীলঙ্কা

স্পোর্টস ডেস্ক

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত প্রথম নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক স্বত্ব হারাতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, ছয় দলের এই টুর্নামেন্টটি নির্ধারিত সময়েই অন্য কোনো দেশে আয়োজিত হবে এবং ভারত নতুন আয়োজক হিসেবে চূড়ান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভায় নতুন আয়োজকের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণেই শ্রীলঙ্কাকে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা সরকার এসএলসি-র বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে 'ট্রান্সফরমেশন কমিটি' নামে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠন করেছে, যা বোর্ডের নতুন সংবিধান তৈরি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের তদারকি করছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে মনোনীত কোনো প্রশাসনকে আইসিসি স্বীকৃতি দেয় না, এবং ট্রান্সফরমেশন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইসিসির বোর্ড সভায় এসএলসির কোনো প্রতিনিধি অংশ নিতে পারেননি।

আয়োজক স্বত্ব হাতছাড়া হওয়ায় শ্রীলঙ্কা নারী দলের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়েও বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আয়োজক দেশ হিসেবে তারা সরাসরি এতে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ছয়টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। র‍্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা রয়েছে সপ্তম স্থানে। তালিকার শীর্ষ পাঁচ দল হলো- অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ষষ্ঠ স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী বাদ পড়ার কথা থাকলেও, শ্রীলঙ্কা যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলে উইন্ডিজ দল এতে সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

গত তিন বছরের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো আইসিসি ইভেন্ট হাতছাড়া হতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার। একই রাজনৈতিক সংকটের কারণে ২০২৩ সালে ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ পুরুষ বিশ্বকাপ তাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।

ট্রান্সফরমেশন কমিটি বর্তমানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে এবং একটি নতুন খসড়া সংবিধান তৈরি করেছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের সংসদে পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। যদি সংসদীয় প্রক্রিয়া ঠিকঠাকভাবে শেষ হয়, তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন আয়োজিত হতে পারে বলে আশা করছে ওই কমিটি।