Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বিপিএল বন্ধের সিদ্ধান্তে ৩ দলের সায়, শর্ত ৫ বছরের সুনির্দিষ্ট সূচি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

বছরের পর বছর ধরে নানা বিতর্কে জর্জরিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। কখনো খেলোয়াড়দের বকেয়া বেতন, কখনো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর হুট করে সরে যাওয়া, আবার কখনো বা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া। সব মিলিয়ে জৌলুস হারিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর। 

কেবল সুনামের ঘাটতিই নয়, টানা তিন বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এমন খাদের কিনারা থেকে টুর্নামেন্টটিকে টেনে তুলতে ২০২৬ সালে বিপিএল আয়োজন না করার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বোর্ড, তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে রংপুর রাইডার্স।

শনিবার বিসিবি কার্যালয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কর্ণধার ও প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে রংপুর রাইডার্স, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

বৈঠক শেষে রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক গণমাধ্যমকে জানান, ‘‘দায়সারাভাবে টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে একটি বিরতি নিয়ে এর ‘সংস্কার’ করাটা এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রস্তাবিত ‘সংস্কার’ ভাবনাটি তাদের দারুণ পছন্দ হয়েছে। গত এক দশক পেরিয়ে গেলেও বিপিএলের কোনো টেকসই ব্যবসায়িক মডেল বা গঠনমূলক কাঠামো তৈরি হয়নি। তাই বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সম্মিলিত চেষ্টায় একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং কার্যকরী মডেল দাঁড় করানো অত্যন্ত জরুরি।’’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে বিপিএলে মানসম্মত বিদেশি ক্রিকেটার পাওয়া বরাবরই কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের নানা প্রান্তে একই সময়ে প্রায় ২০টির মতো লিগ চলায় তারকা খেলোয়াড়দের কাছে বিপিএল প্রায়শই গুরুত্ব হারায়। শেষ মুহূর্তে চড়া দামে খেলোয়াড় কেনার এই সংকট কাটাতে সুনির্দিষ্ট সূচির দাবি জানিয়েছে রংপুর। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মতে, ‘আগামীতে যখনই বিপিএল মাঠে গড়াক না কেন, তার আগে অন্তত পাঁচ বছরের একটি স্থায়ী ক্যালেন্ডার দিতে হবে। এতে করে দলগুলো আগেভাগেই বিদেশি তারকাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পাবে।’

এক বছর বিপিএল মাঠে না গড়ালে দেশি ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, এমন শঙ্কা থাকলেও বাস্তবতার নিরিখে ভিন্ন কথা বলছেন ইশতিয়াক সাদেক। তিনি মনে করেন, ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে খেলোয়াড়দের টাকা আটকে রাখার চেয়ে বিরতি নিয়ে শক্তিশালী কাঠামোর মাধ্যমে ফিরে আসা অনেক বেশি সম্মানজনক। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্পন্সররা কথা না রাখায় খোদ রংপুর রাইডার্সকেও কিছু খেলোয়াড়ের বকেয়া মেটাতে বেগ পেতে হচ্ছে।’ 

তাই নামকাওয়াস্তে আসর বসিয়ে খেলোয়াড়দের ফোন না ধরা বা পালিয়ে বেড়ানোর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে, সময় নিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও টেকসই বিপিএল আয়োজনের পক্ষেই জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

এসটি