স্পোর্টস ডেস্ক
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের দুই কিংবদন্তির মধ্যে একজন আজ কারাগারের অন্ধকারে, আরেকজন সেই কষ্ট সহ্য করতে পারছেন না। ১৯৯২ বিশ্বকাপের সেই স্মরণীয় জুটির সঙ্গী জাভেদ মিয়াঁদাদ সাক্ষাৎকারে কথা বলতে গিয়ে গলা ভেঙে কাঁদতে শুরু করেন। সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির আহ্বান জানিয়ে তিনি বললেন, এই মানুষটি কোনো দুর্নীতিবাজ নন।
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দী ইমরান খান সম্প্রতি ইসলামাবাদে মেডিকেল পরীক্ষা শেষে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরেছেন। তবে সেই পরীক্ষা কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে তার দল আপত্তি জানিয়েছে। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে পরীক্ষা ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এর মধ্যেই বিষয়টি ক্রিকেট জগতেও আলোচনায় এসেছে।
লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচের সম্প্রচারে স্কাই স্পোর্টসের সাক্ষাৎকারে ইমরানের দুই ছেলে সুলেইমান ও কাসিম বাবার স্বাস্থ্য ও কারাগারের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বাবাকে দিনে ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় একা রাখা হচ্ছে এবং নীরব করার চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, ইমরান যথাযথ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন।
এর পরদিনই সাবেক সতীর্থের কথা বলতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন জাভেদ মিয়াঁদাদ। ‘ন্যারেটিভ’ ইউটিউব চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “তিনি একজন সৎ মানুষ। দুর্নীতিতে জড়িত এমন কেউ নন। চাইলে তিনি অনেক কিছুই করতে পারতেন।” ইমরানকে কারাগারে রেখে কী লাভ হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। “তাকে ছেড়ে দিলে কী হবে? তিনি কি কাউকে খেয়ে ফেলবেন বা ক্ষতি করবেন? তিনিও তো কারও সন্তান। আমি সবসময় ভাবি, ভেতরে তিনি কী করছেন।”
মিয়াঁদাদ বলেন, পাকিস্তানের হয়ে একসঙ্গে খেলা এবং কাউন্টি ক্রিকেটে পাশাপাশি সময় কাটানোর কারণে তিনি ইমরানকে ভালো করে চেনেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তার সততায় কোনো সন্দেহ নেই। কথা বলতে বলতে তিনি আরও আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। কারাগারের ভেতরে ইমরানের অবস্থা ভাবলেই তার খুব কষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন, বিষয়টি তাকে খুব আবেগপ্রবণ করে তুলেছে এবং সাবেক সতীর্থের জন্য প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।
খেলোয়াড়ি জীবনে এবং পরে পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে দুজনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না বলে দাবি করেন মিয়াঁদাদ। “আমাদের মধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। লক্ষ্য ছিল একটাই, পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা এবং দেশের জন্য লড়াই করা।”
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে তারা একসঙ্গে পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ১৯৯২ বিশ্বকাপে। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে পাকিস্তান চাপে পড়েছিল। তখন ইমরান ও মিয়াঁদাদ তৃতীয় উইকেটে ১৩৯ রানের জুটি গড়েন। ইমরান করেন ৭২, মিয়াঁদাদ ৫৮। সেই জুটিই শিরোপার ভিত গড়ে দেয়। তিন দশক পর সেই স্মৃতি এখন মিয়াঁদাদের কাছে গৌণ। সাবেক সতীর্থের বর্তমান পরিস্থিতিই বড় হয়ে উঠেছে। তিনি ইমরানকে জাতীয় বীর উল্লেখ করে যথাযথ সম্মান ও পরিস্থিতির সমাধান চেয়েছেন।
ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ শুধু পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ নয়। সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, গ্রেগ চ্যাপেলসহ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের একটি দল যথাযথ চিকিৎসার আহ্বান জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও মর্যাদার সঙ্গে আচরণের কথা বলেছেন।
এসটি