স্পোর্টস ডেস্ক
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮ এএম
বিশ্বকাপের উন্মাদনা থিতিয়ে আসার পরও ফিফার দুর্নীতির গল্প থামছে না। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় আবারও সামনে এসেছে সেই পুরনো কলঙ্কের নতুন অধ্যায়। আর্জেন্টিনার দুই স্পোর্টস মার্কেটিং ব্যবসায়ী পিতা হুগো জিনকিস ও পুত্র মারিয়ানো জিনকিস মার্কিন আদালতে স্বীকার করেছেন, তারা আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে লাভজনক সম্প্রচারস্বত্ব হাতিয়ে নিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ফেডারেল কোর্টে এই স্বীকারোক্তি দেন তারা। ২০১৫ সালের সেই বড় দুর্নীতি তদন্তে অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর এবার চুক্তির মাধ্যমে মামলা এড়াচ্ছেন। মার্কিন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্ট বা স্থগিত মামলার চুক্তিতে রাজি হয়েছেন বাবা-ছেলে। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে, যদি তারা শর্ত পূরণ করেন। বিনিময়ে তারা ৫০ মিলিয়ন ডলার জব্দ করে দিচ্ছেন।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, তারা ‘দশকোটি ডলারেরও বেশি’ বাণিজ্যিক ঘুষ দিতে রাজি হয়েছিলেন এবং দিয়েছিলেনও। এই অর্থের বিনিময়ে ফিফা, কনকাকাফ ও কনমেবলের বিভিন্ন টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ও মার্কেটিং স্বত্ব নিশ্চিত করেছিলেন। তাদের মালিকানাধীন আর্জেন্টিনার কোম্পানি ফুল প্লে-এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকার মতো ম্যাচের স্বত্ব হাতে পেতে এই ঘুষ দেওয়া হয়েছিল।
২০১৫ সালে জুরিখে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের পর যে কেলেঙ্কারি শুরু হয়েছিল, সেই তদন্তেরই অংশ এই মামলা। সে সময় দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকার ফুটবল সংস্থাগুলোতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ধারাবাহিক গ্রেপ্তার, বিচার ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। জিনকিস বাবা-ছেলে তখন থেকেই অভিযুক্ত ছিলেন।
এই স্বীকারোক্তি এমন সময়ে এলো, যখন বিশ্বকাপের পরও ফিফার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ চলছে। পুরনো ক্ষত আবার খুলে যাওয়ায় সংস্থাটির ভাবমূর্তি আরও চাপে পড়েছে।
এসটি