স্পোর্টস ডেস্ক
২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
গত শনিবার রাতে ডারবির একটি নাইটক্লাবের বাইরে ইংল্যান্ডের তারকা পেসার ব্রাইডন কার্সকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনার তদন্তে নেমেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। গত এক বছরের মধ্যে ইংলিশ ক্রিকেটারদের একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার তালিকায় এটি নতুন সংযোজন, যা মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদের অ্যালকোহলপ্রীতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ না পাওয়ায় কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডারহামের হয়ে খেলতে ছাড়া হয়েছিল কার্সকে। ম্যাচে ডারহাম তিন দিনের মধ্যে ডার্বিশায়ারকে পরাজিত করার পর সতীর্থদের সাথে জয় উদযাপনে নাইটক্লাবে গিয়ে এই ঘটনার মুখোমুখি হন তিনি। টেলিগ্রাফে প্রকাশিত সেই ভিডিওতে দেখা যায়, হাত পেছনে রেখে হ্যান্ডক্যাফ পরা অবস্থায় পুলিশ পরিবেষ্টিত কার্স তাঁর ডারহাম সতীর্থ ম্যাথিউ পটস এবং সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকসের সাথে কথা বলছেন।
ইসিবি রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, "আমরা ডারবিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। বিস্তারিত জানার পর পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।" জানা গেছে, কার্সকে সাময়িকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও গ্রেফতার করা হয়নি এবং পরবর্তীতে তিনি হোটেলে ফিরে যান।
লর্ডসে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য সোমবার জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ এই পেসারের। তবে এই তদন্তের কারণে তাঁর স্কোয়াডে থাকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিশাল জয়ের আনন্দকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অনেকটাই ফিকে করে দিয়েছে।
এর আগেও নিউজিল্যান্ড সফর ও ঘরের মাঠের সিরিজে হ্যারি বুক, বেন স্টোকস এবং গাস অ্যাটকিনসনের নৈশকালীন আচরণ নিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে জো রুট টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে দলের ওপর থেকে নৈশকালীন কারফিউ তুলে নিয়ে ক্রিকেটারদের ‘বয়স্ক ও দায়িত্বশীল মানুষের’ মতো আচরণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে কার্সের এই ঘটনার পর লর্ডস টেস্টের আগে দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে আবারও প্রবল বিতর্কের মুখে পড়তে হচ্ছে ইংলিশ ক্রিকেটকে।