Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

মারেস্কার অধীনে জয়ে মৌসুম শুরু ম্যানসিটির

স্পোর্টস ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

পেপ গার্দিওলা-উত্তর যুগে ম্যানচেস্টার সিটির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো নাটকীয় এক জয়ের মধ্য দিয়ে। স্প্যানিশ কোচের স্থলাভিষিক্ত হওয়া এনজো মারেস্কার অধীনে প্রথম প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে রবিবার বোর্নমাউথের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়েছে সিটিজেনরা। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ দিকে মার্ক গেহি ও জোস্কো গভার্দিওলের লক্ষ্যভেদে এই রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত হয়।

ম্যাচের ২৬তম মিনিটে ইভানিলসনের নিখুঁত ক্রসে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে জোরালো শটে বোর্নমাউথকে এগিয়ে দেন মার্কাস ট্যাভার্নিয়ার। সিটির রক্ষণে রুবেন দিয়াস ও আবদুকোদের খুসানভের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। পুরো ম্যাচ জুড়ে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলমুখে জট খুলতে সংগ্রাম করতে হয়েছে সিটিকে।

সিটির হয়ে দীর্ঘ এক দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ২০টি ট্রফি ও ৬টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিলেন গার্দিওলা। ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে কষ্টের জয় দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর যুগ; মারেস্কাও আশা করবেন তাঁর এই সংকীর্ণ জয়টি পরবর্তীতে ঠিক তেমনই এক সফল যুগের সূচনা করবে। মারেস্কা জোর দিয়ে বলেছেন, দলে চলতি "বড় ধরনের রদবদল" সামলে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় পেলে তিনি গার্দিওলার সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে সক্ষম হবেন।

গত সপ্তাহে কমিউনিটি শিল্ডে আর্সেনালের কাছে ৩-০ গোলের বড় হার মারেস্কার সিটির শিরোপা ধরে রাখার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। মৌসুমের প্রথম ম্যাচেও দলের আক্রমণে কিছুটা ধারহীনতা এবং রক্ষণভাগে সমন্বয়ের অভাব দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে লড়াইয়ে ফিরে জয়ের মুখ দেখতে পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন নতুন ইতালিয়ান কোচ।

দলবদলে সিটিতে এখন বড় পরিবর্তনের ঝড় বইছে। ইতোমধ্যে ক্লাব ছেড়েছেন রদ্রি, বার্নার্দো সিলভা, জন স্টোনস, নাথান আকে এবং তিজানি রেইন্ডার্স; অন্যদিকে সাভিনিও টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে। 

এখন পর্যন্ত মারেস্কার একমাত্র বড় সাইনিং ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন, যিনি প্রথমার্ধে নিজের প্রভাব ফেলতে না পেরে দ্বিতীয়ার্ধে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। লিল থেকে ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ডে ১৮ বছর বয়সী মরক্কান তারকা আয়ুব বুয়াদ্দিকে দলে ভিড়ানোর আলোচনা চূড়ান্ত হলেও, শিরোপার দৌড়ে টিকতে সিটির আরও নতুন সাইনিং প্রয়োজন হতে পারে।

গার্দিওলা যুগের একটি ঐতিহ্য অনুকরণ করতে গিয়ে শুরুতেই চমকপ্রদ একাদশ নামান মারেস্কা। তিনি মূল একাদশে ছয়জন ডিফেন্ডার নামিয়ে দেন; যেখানে সেন্টার-ব্যাক মার্ক গেহিকে খেলানো হয় হোল্ডিং মিডফিল্ডে এবং ব্যাক-লাইনের নিকো ও’রাইলিকে সরিয়ে আক্রমণভাগে আর্লিং হালান্ডের কাছাকাছি তুলে আনা হয়।

নতুন মৌসুমের আগে হালান্ডকে বেশ চটপটে মনে হলেও ফিনিশিংয়ে মরচে পড়ে থাকার ছাপ স্পষ্ট ছিল। ও’রাইলির বাড়ানো চমৎকার পাস থেকে সুবিধাজনক পজিশনে বল পেয়েও গোলমুখে বাইরে মারেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। উল্টো ২৬তম মিনিটে প্রথমার্ধের একমাত্র গোলটি হজম করে বসে সিটি। প্রথমার্ধে ফিল ফোডেন ও অ্যান্টোইন সেমেনিয়োর প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন বোর্নমাউথ গোলরক্ষক দরদে পেত্রোভিচ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফোডেনের কর্নার থেকে সহজ হেডের সুযোগ নষ্ট করেন গেহি। চেলসিতে মারেস্কার খেলার ধরণ নিয়ে সমর্থকদের অসন্তোষের যে ইতিহাস ছিল, ম্যাচের ৮০ মিনিট পার হওয়ার পর ইতিহাদের গ্যালারি থেকেও মৃদু দুয়ো ভেসে আসতে শুরু করে। তবে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেওয়ার মতো সেরা সিদ্ধান্তটি নেন মারেস্কা, যখন তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামান ফরাসি প্লেমেকার রায়ান চেরকিকে।

৮৪তম মিনিটে চেরকির নেওয়া কর্নার থেকে লাফিয়ে হেডে গোল করে সিটিকে সমতায় ফেরান গেহি। এরপর যোগ করা সময়ে (৯১ মি.) চেরকির বাড়ানো দারুণ এক থ্রু পাস ধরে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে জালে বল পাঠান জোস্কো গভার্দিওল। শুরুতে ভিএআর-এ অফসাইডের প্রাথমিক শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত গোলটি বহাল থাকলে আনন্দে ভেসে ওঠে গ্যালারি ও সিটির ডাগআউট।