Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বাংলাদেশকে ৬৪ রানে অলআউট করার দিনে স্টেইনকে টপকে গেলেন স্টার্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

২২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম সেশনেই মিচেল স্টার্কের আগুনে বোলিংয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। ম্যাচের প্রথম সেশনেই তুলে নিয়েছেন ৫টি উইকেট। এর মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার ডেইল স্টেইনকে পেছনে ফেলেছেন এই বাঁহাতি অজি পেসার।

টস জিতে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর উইকেটের আর্দ্রতা ও কন্ডিশন পুরোমাত্রায় কাজে লাগান স্টার্ক। টেস্ট ম্যাচের একেবারে প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে গালিতে ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন এই স্টার্ক।

এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে তানজিদ হাসান তামিমকে ফেরানোর পর বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে লেগ বিফোর করেন। স্টার্কের চতুর্থ শিকার হয়ে দ্রুত বিদায় নেন মুমিনুল হকও। শেষ পর্যন্ত লিটন দাসকে লেগ বিফোর করে মাত্র ২৯ রানের মাথায় নিজের পাঁচ উইকেট (ফাইভ-ফর) পূর্ণ করেন স্টার্ক।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির ঠিক আগে প্যাট কামিন্স মুশফিকুর রহিমকে বোল্ড করলে মাত্র ৩৫ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারী বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে ৯ ওভার বল করে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৫টি উইকেট তুলে নেন স্টার্ক।

সেশন শেষে মাঠ ছাড়ার সময় টিভি ধারাভাষ্যকার ও নিজের স্ত্রী অ্যালিসা হিলির সাথে কথোপকথনে স্টার্ক বলেন, "প্রথম সেশনেই ৬ উইকেট, এর চেয়ে ভালো শুরু আর হতে পারে না। বোলিংয়ে কিছুটা রাগ কাজ করছিল। এখন পর্যন্ত সবকিছু দারুণ হয়েছে, আশা করি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব।"

এই ধ্বংসাত্মক স্পেলের মাধ্যমে ডেইল স্টেইনের ৪৩৯ টেস্ট উইকেটের রেকর্ড টপকে গেছেন স্টার্ক। বর্তমানে ৪৪১টি উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসের সফলতম ফাস্ট বোলারদের তালিকায় আরও ওপরের দিকে উঠে এলেন তিনি।

টেস্ট ক্রিকেটে ফাস্ট বোলারদের সর্বাধিক উইকেট:

১. জেমি অ্যান্ডারসন (ইংল্যান্ড) — ৭০৪ উইকেট

২. স্টুয়ার্ট ব্রড (ইংল্যান্ড) — ৬০৪ উইকেট

৩. গ্লেন ম্যাগ্রা (অস্ট্রেলিয়া) — ৫৬৩ উইকেট

৪. কোর্টনি ওয়ালশ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) — ৫১৯ উইকেট

৫. মিচেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া) — ৪৪০ উইকেট

৬. ডেইল স্টেইন (দক্ষিণ আফ্রিকা) — ৪৩৯ উইকেট

ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক হারের পর ব্যাকফুটে থাকা অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত জরুরি। দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অজিরা একাদশে জেক ওয়েদারল্ডের জায়গায় ফেরায় ম্যাথিউ রেনশকে। অন্যদিকে বাংলাদেশ একাদশে ইবাদত হোসেনের জায়গায় সুযোগ পান পেসার শরিফুল ইসলাম।