স্পোর্টস ডেস্ক
২০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
গত ফাইনালের সেই রাত এখনও অনেকের মনে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়েছিল আর্জেন্টিনার। গতকাল সেই ম্যাচের এক মাস পূর্ণ হলো। কিন্তু হারের আঘাত সেরে ওঠার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল এক ধরনের কথা; দল ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছে, খেলোয়াড়দের মানসিকতা ঠিক ছিল না। এমন অভিযোগের জবাব দিতে এবার সামনে এসেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া।
ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে এএফএর প্রকাশিত ভিডিওতে খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ‘কখনো হাল ছেড়ো না’ বার্তা দেওয়া হয়। ভিডিওর নেপথ্য ধারাভাষ্যে বলা হয়, এক মাস আগে ‘কিছু একটা ঘটেছিল’। তবে সেটি কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং একটি দল আরেকটি ফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করেছিল।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক চিঠিতে তাপিয়া এসব কথাকে ‘জঘন্য প্রচারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ফাইনালের পর এমন একটা পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল যাতে মনে হয় আর্জেন্টিনা ইচ্ছা করেই ম্যাচ হেরেছে। খেলোয়াড়রা মাঠে যখন শেষ শক্তিটুকু ঢেলে দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই মাঠের বাইরে কেউ কেউ ঘৃণা ও বিভাজন ছড়াচ্ছিলেন। জাতীয় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছিল।
কয়েক দিন আগে ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনা বলেছিলেন, ফাইনালের পর ষড়যন্ত্রের কথা এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে তার মা পর্যন্ত তাকে প্রশ্ন করেছিলেন। তাপিয়া সেই অভিযোগকারীদের দিকে আঙুল তুলে বলেন, এক মাস পেরিয়ে গেলেও কেউ ক্ষমা চায়নি। কেউ এসে বলেনি যে তারা ভুল করেছেন। নিজেদের দায় নেওয়ার সাহস বা সততা তাদের দেখা যায়নি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, খেলোয়াড়দের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিযোগ তোলার পর আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এমন কথা বলা ব্যক্তিদের কাছে তিনি ব্যাখ্যা দাবি করেন। তাদের মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাপিয়া, এসব করে তারা কীভাবে বাড়ি ফেরেন, কীভাবে নিজেদের সন্তানদের সততা ও সম্মানের শিক্ষা দেন?
এএফএর পক্ষ থেকে বলা হয়, আর্জেন্টিনাবিরোধী নানা প্রচারণার মধ্যেও দলটি ফাইনালে পৌঁছেছিল। ‘কিছু একটা ঘটেছিল’ এমন কথা যারা বলবেন, তাদের উদ্দেশে সংস্থাটির বক্তব্য, হ্যাঁ, কিছু একটা ঘটেছিল; একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছিল। তবে এবার তাদের হার মেনে নিতে হয়েছে।
সময় পার হলেই বিষয়টা মিটে যাবে, এমন ধারণা তিনি নাকচ করেছেন। নীরব থাকা বা অন্যদিকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয় বলেও জানিয়েছেন। সবশেষে তিনি পুরো দল, কোচিং স্টাফ ও সহায়ক কর্মীদের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে বলেন, যারা মাঠে সবটুকু দিয়েছেন তাদের কিছুই ব্যাখ্যা করার দরকার নেই। ব্যাখ্যা দিতে হবে তাদের, যারা মিথ্যা কথা ছড়িয়েছেন।