স্পোর্টস ডেস্ক
২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:১০ পিএম
একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারে এমন মৌসুম খুব কমই আসে, যেখানে গোলের বৃষ্টি, ট্রফি আর ব্যক্তিগত উজ্জ্বলতা একসঙ্গে জমে ওঠে। ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের অধিনায়ক হ্যারি কেইন ঠিক তেমনই এক অসাধারণ সময় কাটিয়েছেন। ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার সম্মান গোল্ডেন শু হাতে তুলে নেওয়ার পর এখন তার দৃষ্টি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের দিকে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে কেইন মোট ৭৩ গোল করেছেন। বায়ার্নের জার্সিতে বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জিতেছেন তিনি। তার নেতৃত্বে বায়ার্ন জার্মান লিগ ও কাপের শিরোপা তুলেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগেও সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল জার্মান ক্লাবটি।
বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কেইন। টুর্নামেন্টে ছয় গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন। শেষ চারে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে ইংল্যান্ডের যাত্রা থামলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন দলের অধিনায়ক।
গোল্ডেন শু গ্রহণের পর ব্যালন ডি’অর নিয়ে কেইন বলেছেন, অক্টোবর পর্যন্ত এ নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে পুরস্কারটি তার নিয়ন্ত্রণে নেই। গত মৌসুমে নিজের পক্ষ থেকে যা করার ছিল, সবই করেছেন বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, সেটিই ছিল ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অনেক কিছু অর্জন করেছেন তিনি।
সাবেক ইংলিশ ফুটবলার ড্যানি মিলস মনে করেন, এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াই বেশ উন্মুক্ত। তার মতে, এখন পর্যন্ত কেইনই সবচেয়ে ধারাবাহিক খেলোয়াড়দের একজন। তবে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে পুরো মৌসুমে একজনকে অন্যদের চেয়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রাখা কঠিন। মিলসের মতে, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলে লিওনেল মেসির সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হতো। কিন্তু রানার্সআপ হওয়ায় মেসির সুযোগ আগের তুলনায় কমেছে। ফলে কেইনসহ অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের সামনে পুরস্কার জয়ের সুযোগ বেড়েছে।
এবারের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। ৭০তম আসরটি এবার প্রথমবারের মতো প্যারিসের বাইরে হচ্ছে। ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত এই সম্মানের জন্য কেইনের সঙ্গে আরও কয়েকজন তারকা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।