Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

অপরিচিত ম্যাকেতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বৈরথ, যা কিছু জানার আছে

স্পোর্টস ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

ম্যাকে নামটা শুনলেই যেকোনো ক্রিকেটপ্রেমীর স্মৃতির পাতায় খানিকটা শূন্যতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ৩৪ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে যে মাঠে মোটে তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ গড়িয়েছে, তাকে অদেখা-অচেনা বলাটাই হয়তো সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। শান্ত ও নিরিবিলি 'গ্রেট ব্যারিয়ার রীফ অ্যারেনা' এবার সেজে উঠছে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের জন্য। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ শুরু করা বাংলাদেশ দলের সামনে এখন অজিদের তাদেরই মাটিতে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ভেন্যুর আত্মপ্রকাশের স্মৃতিটা বেশ অদ্ভুত। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবার এখানে আন্তর্জাতিক খেলা গড়ালেও বৃষ্টির বাগড়ায় তা স্থায়িত্ব পেয়েছিল মাত্র দুই বল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ তিন দশক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাম্প্রতিক দুটি একদিনের ম্যাচ ছাড়া ম্যাকার আন্তর্জাতিক খাতা বলতে গেলে ফাঁকাই থেকে গেছে। টি-টোয়েন্টি তো দূরের কথা, সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট মিলিয়েও এই ভেন্যুতে মোটে ২০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

লাল বলের ক্রিকেটেও ম্যাকার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সীমিত। তৎকালীন 'হ্যারাপ পার্ক' নামে পরিচিত এই মাঠে ১৯৯৫ সালে শ্রীলঙ্কা ও কুইন্সল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০১৫ ও ২০২৩ সালে হাতেগোনা কয়েকটি ম্যাচ দেখেছে এই মাঠ। এমনকি ২০২৪-এর শেষের দিকে ভারত 'এ' ও নিউজিল্যান্ড 'এ' দলের একটি লাল বলের ম্যাচ হলেও, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের রোমাঞ্চ সামলানোর অভিজ্ঞতা এই পিচের জন্য একদমই নতুন।

তবে সফরকারীদের অচেনা এই মাঠে স্বাগতিকদের একমাত্র স্বস্তির নাম হতে পারেন ওপেনার ম্যাট রেঁশ। বাজে ফর্মের কারণে বাদ পড়া জ্যাক ওয়েদারাল্ডের জায়গায় টেস্ট দলে ফেরা রেঁশর কাছে ম্যাকে যেন এক চেনা আস্তানা। এই মাঠে খেলা দুটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচসেরা হওয়ার বিরল রেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ২০১৫ সালে ১৭০ আর ২০২৩ সালে ১৩৫ রানের দুটি ইনিংস রেঁশকে যেমন বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে, তেমনি কন্ডিশন বিচারে অজি শিবিরের মূল ভরসাও হবেন তিনি।

অন্যদিকে, ডারউইন টেস্টে স্মরণীয় জয়ের পর আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় সুবিধাজনক স্থানে থাকা টাইগারদের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে ধবলধোলাই করার সুবর্ণ সুযোগ। যে অচেনা কন্ডিশন ও নতুন পিচ অজিদের জন্য এক রহস্যময় ধাঁধা, সেই ম্যাকেতেই নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক সোনালী অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।