স্পোর্টস ডেস্ক
১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৩ এএম
ফুটবলের মাঠে জয়-পরাজয় থাকে, থাকে উৎসব আর উল্লাস। কিন্তু কখনো কখনো সেই উৎসবকে ছাপিয়ে যায় পুরনো কোনো ক্ষোভের গল্প। ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে ভাস্কোর বিপক্ষে সান্তোসের ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ের দিনটিতে ঠিক এমনটাই ঘটলো। মাঠের লড়াইয়ে সান্তোস দাপট দেখিয়ে বড় জয় পেলেও, দর্শকদের নজর কেড়েছে অন্য একটি দৃশ্য। ম্যাচ শেষে নেইমারের সাথে থিয়াগো মেন্ডেসের হাত না মেলানোর ঘটনা। ছয় বছর আগের এক পুরনো তিক্ততা যে এখনো দুজনের মনে দগদগে ঘায়ের মতো তাজা, এই ঘটনাই যেন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
সান্তোস এবং ভাস্কোর মধ্যকার এই ম্যাচটি এমনিতেই বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। তবে ম্যাচের ফলাফলকে ছাপিয়ে এখন ক্রীড়াবিশ্বের আলোচনায় নেইমার ও মেন্ডেসের সাপে-নেউলে সম্পর্ক। খেলা শেষে সৌজন্যমূলক করমর্দন ফুটবলের একটি সাধারণ অলিখিত নিয়ম হলেও, মেন্ডেস সেটি এড়িয়ে যান।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে এই দুজনের মুখোমুখি দেখায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেবার মাঠে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে দুজনে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে মেন্ডেস নেইমারের মুখে হাত দিলে নেইমার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শান্ত করতে রেফারি দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান। ম্যাচ শেষে নেইমার স্পোর্টটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেন্ডেসকে 'বোকা' বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, মেন্ডেস তাকে মাঠে আবারও হুমকি দিয়েছেন এবং পুরনো সেই ফাউলের কথা মনে করিয়ে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এই দুই ব্রাজিলিয়ান তারকার দ্বন্দ্বের শুরুটা আজকের নয়। ফিরে যেতে হবে ছয় বছর আগে, ২০২০ সালে। তখন দুজনেই খেলতেন ফরাসি লিগ ওয়ানে। প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং লিওঁ-এর মধ্যকার একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মেন্ডেসের এক ভয়ংকর 'সিজার ট্যাকলের' শিকার হয়েছিলেন নেইমার। সেই মারাত্মক ফাউলের জন্য মেন্ডেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল এবং নেইমারের বাঁ পায়ের গোড়ালিতে মারাত্মক চোট লাগে।
যদিও ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেন্ডেস নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং নেইমারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিলেন। কিন্তু নেইমার সেই ক্ষমার কোনো সরাসরি জবাব দেননি। তিনি শুধু চোট খুব বেশি গুরুতর না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন।
সেদিন নেইমার চুপ থাকলেও, চুপ থাকেননি তার বাবা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছিলেন, 'একজন খেলোয়াড় পিছন থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ভয়ংকর ট্যাকল করছে, যার ফলে অন্য খেলোয়াড়টির আত্মরক্ষার কোনো সুযোগই থাকছে না।'
সেই যে তিক্ততার শুরু, সময়ের পরিক্রমায় দুজনের ঠিকানা ফ্রান্স থেকে ব্রাজিলে বদলে গেলেও তাদের মধ্যকার দূরত্বের বরফ এখনো গলেনি। সান্তোস ও ভাস্কোর মধ্যকার সর্বশেষ ম্যাচটি যেন সেই পুরনো আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলে দিল।