Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বাংলাদেশের কাছে হেরে অস্ট্রেলিয়া দলে পরিবর্তনের আভাস কামিন্সের

স্পোর্টস ডেস্ক

১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। এই ঐতিহাসিক হারের পর অধিনায়ক প্যাট কামিন্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের ব্যর্থতার পেছনে কোনো অজুহাত নেই। আগামী সপ্তাহে ম্যাকাইয়ে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের আগে দল গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে দারুণ দাপট দেখাতে দেখা যায়। চতুর্থ দিনের চা বিরতির ঠিক আগেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।

টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তাদের প্রথম ইনিংস মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে তোলে ৪২৬ রান। বড় লিড নিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় টাইগাররা। পরে রান তাড়া করতে নেমে সহজ জয় তুলে নেয় সফরকারী দল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কামিন্স বলেন, “আমি মনে করি আমাদের প্রস্তুতি একদম ঠিকঠাক ছিল। চমৎকার প্রস্তুতি ছিল, তাই কোনো অজুহাত নেই।”

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “তারা সত্যিই খুব ভালো খেলেছে। প্রথম দিনের উইকেটে শুরুতে একটু সহায়তা ছিল, কিন্তু আমাদের আরও একটু দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাট করার পথ খুঁজতে হবে। এরপর বল হাতেও আমরা প্রভাব ফেলতে পারিনি। তারা সব বিভাগেই আমাদের চেয়ে সেরা খেলা উপহার দিয়েছে। আমার মনে হয় তারা বেশ ধৈর্যশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। আমরা একবার পিছিয়ে পড়ার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারিনি।”

ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে অস্ট্রেলিয়া দলে রদবদলের হাওয়া বইছে। প্রথম টেস্টে সুযোগ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড (২৩ ও ০)। অন্যদিকে ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি মার্নাস লাবুশেন।

দ্বিতীয় টেস্টে একাদশে পরিবর্তন আসবে কি না- এমন প্রশ্নে কামিন্স জানান, এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলেও বিষয়টি নিয়ে দলে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এই ধরনের ম্যাচের পর সবাই পরবর্তী ম্যাচের জন্য দল গঠন ও কম্বিনেশন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে। তবে ম্যাচটি মাত্রই শেষ হলো, তাই আমরা এটি নিয়ে ভাবব। ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে আমরা বেশ ভালো। কোনো সন্দেহ নেই যে ব্যাটাররা এবং প্রতিটি বিভাগ একসঙ্গে বসে এটি নিয়ে আলোচনা করবে এবং আমরা কোথায় উন্নতি করতে পারি তা নিয়ে ভাববে।”

অস্ট্রেলিয়ার এই দুঃসময়ের মাঝেও উজ্জ্বল ছিলেন পেসার জশ হ্যাজলউড ও অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। প্রথম ইনিংসে ৮৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন হ্যাজলউড। অন্যদিকে, চাপের মুখে চমৎকার ইনিংস খেলে ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান গ্রিন।

তাদের প্রশংসা করে কামিন্স বলেন, “গত দুই বছরে চোটের কারণে জশ খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। তবে সে অন্যতম কঠোর পরিশ্রমী খেলোয়াড় এবং সহায়ক না হওয়া উইকেটেও নিজের মান প্রমাণ করেছে। তবুও সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি উইকেট তুলে নিয়েছে। সে এক কথায় অসাধারণ ছিল। আর গ্রিনির কথা বলতে গেলে, এই ইনিংসে তার ব্যাটিংয়ের মেজাজই বুঝিয়ে দিয়েছে সে কতটা দুর্দান্ত। ওর সাথে শুধু আমাদের দু-একজনের ক্রিজে টিকে থাকার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সে অসাধারণ খেলেছে।”

তবে সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিং দলের এই ব্যর্থতায় কঠোর পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। পন্টিং বলেন, “আমি মনে করি দলে পরিবর্তন আনা এখন অনিবার্য। গত গ্রীষ্মের শেষেই আমি বলেছিলাম যে, কয়েকজন খেলোয়াড়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে দল পুনর্গঠন শুরু করার এটিই উপযুক্ত সময়। কোনো অধিনায়ক বা খেলোয়াড় হিসেবে আমি নিজে সবার আগে দলে পরিবর্তন চাইব না, আমি দলটাকে একসাথেই রাখতে চাইতাম। তাই কাউকে বাদ দেওয়ার কথা বলার আগে পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি হতে হয়। তবে এখানে আসার আগেই আমি যথেষ্ট প্রমাণ পেয়েছি যে নতুন একজন ওপেনার বা তিন নম্বরে নতুন কাউকে এনে পুনর্গঠন শুরু করলে দল তেমন কিছুই হারাবে না।”