Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ক্রিকেট

পেসারদের মানসিক পরিবর্তনই এনে দিয়েছে ডারউইনের জয়, বললেন শান্ত

স্পোর্টস ডেস্ক

১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জেতা এখনও ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। সেই কঠিন কাজটাই এবার করেছে বাংলাদেশ। একদিনেরও বেশি সময় হাতে রেখে ৯ উইকেটের দাপুটে এক জয় ছিনিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই জয়ে বল হাতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ দলের পেসাররা। টাইগারদের অধিনায়ক নাজমুল শান্তও তাই পেসারদের কৃতিত্ব দিতে ভুলেননি।  ঐতিহাসিক জয়কে স্মরণীয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দেশের পেস বোলারদের টেস্ট ক্রিকেট খেলা এবং এই ফরম্যাটে সেরা হওয়ার তাড়নাই তাঁদের মানসিকতায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের এই জয়ে মূল ভূমিকা রাখেন পেসাররা; বিশেষ করে হাসান মাহমুদ এক অনবদ্য বোলিং স্পেল উপহার দেন।

ম্যাচে ১১১ রান দিয়ে ৯টি উইকেট নেন হাসান, যার মধ্যে প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান তিনি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের তিন পেসার মিলেই অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটের সবকটি তুলে নেন, যা দেশের টেস্ট ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা।

পেসারদের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ম্যাচটি জিতে নেয় এমন এক জায়গায়, যেখানে জয় পাওয়াকে ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন মিশন মনে করা হয়। শান্ত জানান, বিশ্বমানের বোলার হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশি পেসারদের এই ক্ষিপ্রতা ও ক্ষুধা সত্যিই দেখার মতো।

ম্যাচ শেষে শান্ত বলেন, "টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় ভাবনায় এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। বছর পাঁচেক আগেও পেসাররা টেস্ট খেলতে খুব একটা উৎসাহ দেখাত না। কিন্তু এখন আমরা নিয়মিত টেস্ট খেলছি এবং তারাও এই ফরম্যাটকে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা খেলতে চায়, ভালো করতে চায় এবং বিশ্বমানের বোলার হতে চায়। তাদের মূল মানসিকতাই এখন এটা।"

তরুণ বোলারদের মনে টেস্টের প্রতি এমন আগ্রহ তৈরি করার পেছনে জ্যেষ্ঠ দুই ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও মোমিনুল হকের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শান্ত বলেন, "এই দুজন সিনিয়র ব্যাটার টেস্ট ক্রিকেটকে লালন করেন এবং তাঁদের সেই অনুরাগের প্রভাব তরুণদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।" অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই জয়ে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকানো ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের পরিণত ব্যাটিংয়ের বেশ প্রশংসাও করেন শান্ত।

তিনি যোগ করেন, "সাদা বলের ক্রিকেটে তানজিদ বেশ আক্রমণাত্মক খেলে, কিন্তু এই টেস্টে ও দারুণ ধৈর্য দেখিয়েছে এবং বলের মেরিট বুঝে শট খেলেছে। টপ-অর্ডার ব্যাটার হিসেবে দল যেভাবে প্রভাব ফেলার আশা করে, ও ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছে।"

এই সাফল্যকে যেকোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অর্জন বলে অভিহিত করেন শান্ত। একই সঙ্গে সামনের দিনগুলোতে আরও বিশেষ কিছু উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি বলেন, "যেকোনো ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটে এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় জয়। সামনে এগোতে হলে আমাদের ভবিষ্যতে এমন বিশেষ কিছু করে দেখাতে হবে।"

বাংলাদেশের পরবর্তী লক্ষ্য এখন ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় টেস্ট। সেখানে পুরো পাঁচ দিন জুড়ে শৃঙ্খলা বজায় রেখে খেলা ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন অধিনায়ক। শান্ত বলেন, "আমরা যে পারি সেই প্রমাণ এখন আমাদের কাছে আছে, তবে মাঠে ভালো খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। পুরো পাঁচটি দিনই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমরা যদি প্রতিটি সেশনে মনোযোগ ধরে রাখতে পারি এবং নিচের সারির ব্যাটাররাও অবদান রাখতে থাকে, তবে জয় পাওয়া সম্ভব।"