স্পোর্টস ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জেতা এখনও ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। সেই কঠিন কাজটাই এবার করেছে বাংলাদেশ। একদিনেরও বেশি সময় হাতে রেখে ৯ উইকেটে দাপুটে এক জয় ছিনিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই জয় টাইগাররা কেবল আঁকড়ে ধরে থেকে কিংবা অস্ট্রেলিয়ার ভেঙে পড়ার অপেক্ষায় বসে থেকে অর্জন করেনি। অজিদের বিপক্ষে সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে, চোখে চোখ রেখে, নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েই জিতেছে। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিমত্তা ও সুনাম, তাদের বোলিং আক্রমণ, সেখানকার কন্ডিশন, কিংবা গত সপ্তাহে সেই প্রস্তুতি ম্যাচে বাজে হার- কোনো কিছুই তাদের কাবু করতে পারেনি। দারুণ এই জয়ে এক ঝাঁক রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ।
চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের যত রেকর্ড-
১ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের তৃতীয় প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়, ডারউইনে ৯ উইকেটের অবিস্মরণীয় এই সাফল্য। এর আগে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি টেস্ট খেলে দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সামগ্রিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত ম্যাচে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট জয়; ২০১৭ সালে মিরপুরে প্রথম জয়টি এসেছিল।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের ক্ষেত্রে সফরকারী দলগুলোর মধ্যে কেবল ইংল্যান্ড বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচে (২টি) জয় পেয়েছে; অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও তাদের তৃতীয় প্রচেষ্টায় প্রথম জয় পেয়েছিল।
১০৭৫ ডারউইন টেস্ট শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের বোলারদের মোট সংগৃহীত উইকেটের পার্থক্য। বিজয়ী দল ও বিজিত দলের বোলারদের অভিজ্ঞতার এমন বড় ব্যবধানের পর পরাজয়ের রেকর্ড ইতিহাসে মাত্র দুবার এর চেয়ে বেশি ছিল- ২০২৪ সালে পার্থে যখন ভারত অস্ট্রেলিয়াকে হারায় (পার্থক্য ছিল ১২৪৭) এবং একই বছরের শুরুতে ব্রিসবেনে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অস্ট্রেলিয়াকে হারায় (পার্থক্য ছিল ১১১১)।
৩ গত ১৫ বছরে টসে জিতেও ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট পরাজয়ের ঘটনা, যার মধ্যে ডারউইন টেস্ট একটি। বাকি দুটি ছিল ২০২০-২১ মৌসুমে এমসিজি এবং গ্যাবায় ভারতের বিপক্ষে।
২০২৩ সালের ওভাল অ্যাশেজ টেস্টের পর এবারই প্রথম টসে জিতে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যবর্তী ৯টি টেস্টেই তারা টসে জিতে জয় তুলে নিয়েছিল।
১০ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসারদের নেওয়া উইকেটের সংখ্যা, টেস্ট ইতিহাসের কোনো ইনিংসে বাংলাদেশি পেসারদের সবকটি (১০টি) উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটি মাত্র দ্বিতীয়বার। ডারউইন টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশি পেসাররা মোট ১৪টি উইকেট শিকার করেছেন, যা এক টেস্টে তাঁদের যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড।
৯/১১১ ডারউইনে হাসান মাহমুদের এক ম্যাচে সংগৃহীত উইকেট, যা টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো বাংলাদেশি পেসারের জন্য দ্বিতীয় সেরা। এর মধ্যে প্রথম ইনিংসে তাঁর ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেওয়া বাংলাদেশি পেসারদের সেরা বোলিং ফিগারের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে সফরকারী বোলারদের মধ্যে হাসানের এই বোলিং ফিগার তৃতীয় সেরা। ১৯৯০ সালে এমসিজিতে ওয়াসিম আকরাম এবং ১৯২৪ সালে এসসিজিতে মরিস টেট ১১টি করে উইকেট নিয়েছিলেন।
১৯৮ ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ, যা বাংলাদেশে বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে যেকোনো দলের জন্য সর্বনিম্ন প্রথম ইনিংসের স্কোর। এটি টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ারও সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
২০১৯ ২০১৯ সালে এসসিজিতে কুলদীপ যাদবের পর প্রথম সফরকারী স্পিনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পুরুষদের টেস্টে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০১৩ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ৫ উইকেট পাওয়া সফরকারী স্পিনার কুলদীপ ও মিরাজ। ২০০০ সালের পর থেকে মিরাজ ছাড়া কেবল একজন সফরকারী অফস্পিনারই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৫ উইকেট পেয়েছেন, ২০১০ সালে অ্যাডিলেডে গ্রায়েম সোয়ান।
ডারউইনে বল হাতে ৫ উইকেটের পাশাপাশি ব্যাটে অর্ধশতকও হাঁকান মিরাজ। একই টেস্টে ফিফটি ও ৫ উইকেট নেওয়ার ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারে এটি চতুর্থবার; যার দুটিই এসেছে বিদেশের মাটিতে (বাংলাদেশের হয়ে বিদেশের মাটিতে এই রেকর্ড সমানভাবে কেবল সাকিব আল হাসানের রয়েছে)।
৩৩ ঘরের মাঠে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করার আগে ক্যামেরন গ্রিনের খেলা ইনিংসের সংখ্যা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পেতে গ্রিনের চেয়ে বেশি ইনিংস লেগেছে মাত্র দুজন ব্যাটারের, ইয়ান হিলি (৪১) ও বব সিম্পসন (৩৬)।
৯ নবম বোলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মালিক হলেন জশ হ্যাজলউড। আগের আটজনের মধ্যে তিনজনই ডারউইন টেস্টের একাদশে ছিলেন—নাথান লায়ন, মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। টেস্ট ক্রিকেটে একই দলের একাদশে ৩০০-এর বেশি উইকেটধারী চার বোলার খেলার ঘটনা এটিই প্রথম।
৩ অধিনায়ক হিসেবে বিদেশের মাটিতে নাজমুল হোসেন শান্তর টেস্ট জয়, যা কোনো বাংলাদেশি অধিনায়কের জন্য সর্বোচ্চ। এর আগের দুটি জয় এসেছিল ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে। শান্ত ইতোমধ্যেই মোট টেস্ট জয় (৯টি) এবং ঘরের মাঠে টেস্ট জয়ে (৬টি) বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক।
৬ প্যাট কামিন্স অধিনায়ক হিসেবে মোট ৮টি ভিন্ন দলের মুখোমুখি হয়ে ৬টির বিপক্ষে অন্তত একটি টেস্ট হেরেছেন, যা কোনো অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের জন্য প্রথম। এর আগে ছয়জন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক সর্বোচ্চ ৫টি দলের বিপক্ষে হেরেছিলেন। কেবল পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে এখনো অপরাজিত রয়েছেন কামিন্স।