স্পোর্টস ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৫ এএম
লাল-সবুজের ক্রিকেট ইতিহাসে এর চেয়ে রোমাঞ্চকর, এর চেয়ে শিহরন জাগানিয়া মুহূর্ত সম্ভবত আর আসেনি! ডারউইনের বাইশ গজে আজ কেবল একটি টেস্ট ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়নি; বরং লেখা হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট-রূপকথার সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। যে অস্ট্রেলিয়ার রুক্ষ মাটি ও বাউন্সি উইকেট উপমহাদেশের যেকোনো দলের জন্যই এক অলঙ্ঘনীয় প্রাচীর, ঠিক সেখানেই চার দিন ধরে বুক চিতিয়ে রাজত্ব করেছে টাইগাররা। স্বাগতিকদের সমস্ত অহংকার গুঁড়িয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম এক অভাবনীয় ঐতিহাসিক টেস্ট জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।
ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু সেঞ্চুরিতে ভর করে ক্যাঙারু শিবির খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর যে শেষ চেষ্টা করেছিল, পেসার হাসান মাহমুদের একটি জাদুকরী ডেলিভারিতেই তা নিমিষে শেষ হয়ে যায়। তাসকিনের আগ্রাসী গতির পর স্পিন-জাদুকর মিরাজের ১৫তম ‘ফাইফার’ অজিদের প্রতিরোধকে পুরোপুরি ধসিয়ে দিয়েছে।
প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের বিশাল পাহাড় গড়ার সুবাদে, ডারউইনের এই মহাকাব্যিক জয়ের পূর্ণতা পেতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ৫৭ রানের সহজ সমীকরণ। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকের ব্যাটে ৯ উইকেটের জয় পায় টাইগাররা। তাতে অজিদের ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় শান্ত-লিটনরা। এদিকে ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ২-১ এগিয়ে রইল টাইগাররা।
জয়ের জন্য ছোট এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য কিছুটা অস্বস্তির ছিল টাইগারদের। ইনিংসের একদম শুরুতেই জশ হ্যাজেলউডের অসাধারণ এক ডেলিভারিতে কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন আগের ইনিংসে শতক হাঁকানো ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তবে সেই শুরুর ধাক্কাটা দলের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
প্রাথমিক ওই বিপদের পর শক্ত হাতে দলের হাল ধরেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। অজি পেসার মিচেল স্টার্ক কিংবা স্পিনার নাথান লায়নের কোনো আক্রমণই তাদের টলাতে পারেনি, উল্টো তাদের বল থেকে বাউন্ডারি আদায় করে নিয়েছেন তারা। দুজনের সাবলীল ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নির্বিঘ্নে পাড়ি দেওয়া গেছে এই সহজ লক্ষ্য। শেষ পর্যন্ত সাদমান ২৫ এবং মুমিনুল ৩০ রানে অপারিজত থাকেন।