স্পোর্টস ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:১১ এএম
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়, একসময় যা ছিল বাংলাদেশের জন্য কেবলই দূর আকাশের তারা, আজ সেই স্বপ্ন ধরা দিতে চলেছে হাতের মুঠোয়! ডারউইনে রচিত হতে যাচ্ছে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক অধ্যায়। চার দিন ধরে স্বাগতিকদের ওপর দাপট দেখিয়ে এখন জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কাঙ্ক্ষিত এই ইতিহাস গড়তে টাইগারদের পাড়ি দিতে হবে মাত্র ৫৭ রানের সহজ এক পথ।
অজিদের হয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে তিনি চেষ্টা করেছিলেন দলকে ম্যাচে ফেরানোর। তবে তার সেই প্রতিরোধের দেয়াল অবশেষে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। নিখুঁত নিশানার একটি ডেলিভারি হঠাৎ নিচু হয়ে গেলে ঠিকমতো সামলাতে পারেননি গ্রিন, বল সরাসরি আঘাত হানে স্টাম্পে। সাজঘরে ফেরার আগে ২০১ বল মোকাবিলায় ৪টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে লড়াকু ১০৪ রান আসে এই মিডল অর্ডার ব্যাটারের ব্যাট থেকে। তার বিদায়ের পর অজিদের ইনিংস গুটিয়ে যেতে মোটেও সময় লাগেনি।
এর আগে লাঞ্চ বিরতির আগে মিচেল স্টার্ককে সঙ্গী করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন গ্রিন। তাদের ৪৭ রানের জুটি বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের বড় লিড টপকে যায়। বিরতি থেকে ফিরেই এই জুটিতে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। তার অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে লিটন দাসের গ্লাভসে ধরা পড়েন ৩৪ বলে ১৮ রান করা স্টার্ক। আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। সতীর্থদের হারিয়েও অবশ্য গ্রিন লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তবে ক্যাঙারু শিবিরের ব্যাটিং লাইনআপে সবচেয়ে বড় ধসটা নামিয়েছেন স্পিন জাদুকর মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে একে একে সাজঘরের পথ ধরেন অ্যালেক্স ক্যারি, বাউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্স। শেষদিকে নাথান লায়নকে (১৫ রান) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে অজিদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন তিনি। সেই সঙ্গে মিরাজ পূর্ণ করেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৫তম 'ফাইফার'।
প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে স্বাগতিকদের চেয়ে ২২৮ রানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। গ্রিনের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রান পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয়। ফলে ডারউইন টেস্টে অজিদের মাটিতে তাদেরই বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেতে বাংলাদেশের সামনে এখন কেবল ৫৭ রানের সহজ সমীকরণ।