স্পোর্টস ডেস্ক
১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ফুটবল মাঠে কখনো কখনো রূপকথার চেয়েও অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। একদিকে যখন আবেগে ভাসছে এক শহরের ভক্তরা, অন্যদিকে আরেক শহরে বাজছে উৎসবের বাদ্যি। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় রুপি মাত্র ১০০ টাকার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৮ টাকার (১.০৫ ডলার) প্রতীকী মূল্যে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) দল জামশেদপুর এফসি-কে কিনে নিল গোয়াভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব চার্চিল ব্রাদার্স। এর মধ্য দিয়ে ঝাড়খণ্ডের ফুটবলে একটি সোনালি অধ্যায়ের করুণ সমাপ্তি হলো, আর শীর্ষ লিগে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটল চার্চিল ব্রাদার্সের।
টাটা স্টিল সপ্তাহ দুয়েক আগেই আইএসএল থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। অবশেষে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তারা জামশেদপুর এফসির শতভাগ মালিকানা চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই চুক্তির ফলে আইএসএলের শীর্ষ স্তরে খেলার লাইসেন্স পেয়ে গেল দুইবারের জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন গোয়ার ক্লাবটি। একইসঙ্গে জামশেদপুরের ১২ জন খেলোয়াড় এবং দুজন কোচের চুক্তিও এখন তাদের অধীনে চলে গেছে। টাটা স্টিলের কর্পোরেট সার্ভিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডি. বি. সুন্দর রামাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের খেলোয়াড় ও কোচরা অন্য ক্লাবের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তারা বেশ আনন্দিত।
জামশেদপুর এফসির এই পরিণতি ভক্তদের জন্য এক বিশাল ধাক্কা। ২০২১-২২ মৌসুমে লিগ উইনার্স শিল্ড এবং গত বছর সুপার কাপ জেতা এই ক্লাবটিকে বাঁচাতে সম্প্রতি খেলোয়াড় ও সমর্থকরা রাস্তায় নেমে টাটা গ্রুপের কাছে আবেগপূর্ণ আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবারের এই ঘোষণায় তাদের সব আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেল। এর ফলে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর শহর তাদের একমাত্র শীর্ষ লিগের দলটিকে হারাল। এখন থেকে দলটির ঠিকানা হবে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে ফুটবলের শহর গোয়ায়। তবে জামশেদপুরের জার্সিতে তারা আগামী সোমবার ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মোহনবাগানের বিপক্ষে শেষবারের মতো মাঠে নামবে।
২০১৭ সালে যখন রিলায়েন্সের পৃষ্ঠপোষকতায় আইএসএল চলছিল, তখন এই লিগে যুক্ত হয়েছিল জামশেদপুর। কিন্তু এক বছরেরও কম সময় আগে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) সাথে রিলায়েন্সের বাণিজ্যিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকি আসন্ন মৌসুমের ফিক্সচার এবং সম্প্রচারকের নামও এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এমন এক টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই আইএসএল থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাটা। এআইএফএফ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে, চার্চিল ব্রাদার্সের জন্য এটি এক স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন। ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর তারা আর ভারতের শীর্ষ লিগে খেলেনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে আই-লিগের শিরোপা জিতে আইএসএলে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিল তারা। প্রথমে ইন্টার কাশিকে অযোগ্য খেলোয়াড় খেলানোর দায়ে পয়েন্ট কেটে শাস্তি দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসের (সিএএস) রায়ে ইন্টার কাশি তাদের পয়েন্ট ফিরে পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়। অভিমানে পরের মৌসুমে লিগ থেকেই নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল চার্চিল ব্রাদার্স।
তবে এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে তারা আবারও নিজেদের কাঙ্ক্ষিত জায়গায় ফিরেছে। ইন্সটাগ্রামে উচ্ছ্বসিত ক্লাবটি লিখেছে, 'আমাদের ঠিক সেখানেই ফিরে আসতে হতো, জায়গাটা যেখানে আমাদেরই। আমাদের প্রেসিডেন্ট চার্চিল আলেমাও কখনো বিশ্বাস হারাননি। অনেকেই যখন আমাদের পতন দেখেছিল, আমরা তখন নতুন সুযোগ দেখেছি। কেউ যখন শেষ দেখেছিল, আমরা দেখেছি এক নতুন শুরু।'