স্পোর্টস ডেস্ক
১৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩০ এএম
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্বস্তিকর অবস্থান কিংবা প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে ধসে পড়ার তিক্ত স্মৃতি; সব অতীতকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অবিশ্বাস্য এক কামব্যাকের রূপকথা লিখছে বাংলাদেশ। যে দলটিকে ঘিরে ক্রিকেটবোদ্ধাদের চরম সংশয়ের মেঘ জমা হয়েছিল, ডারউইনের বাইশ গজে পূর্ণশক্তির ক্যাঙ্গারু বাহিনীকে ব্যাকফুটে ঠেলে সেই লাল-সবুজের শৌর্যই এখন কথা বলছে। স্বাগতিকদের ওপর শক্ত আধিপত্য বিস্তার করে ডারউইন টেস্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন শান্ত বাহিনীর হাতে, যেখানে টাইগাররা প্রহর গুনছে এক ঐতিহাসিক জয় উদযাপনের।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা তুলে নিয়েছে ২২৮ রানের সুবিশাল এক লিড। ব্যাট হাতে উপরের সারির ব্যাটারদের পাশাপাশি দলের লোয়ার অর্ডারে টাইগার পেসার হাসান মাহমুদও দারুণ এক নজির গড়েছেন। আট নম্বরে নেমে অজি বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে ৯২টি বল মোকাবিলা করেন তিনি, যা ক্যাঙ্গারুদের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি টেল-এন্ডারের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বল খেলার রেকর্ড। হাসানদের দৃঢ়তায় বিশাল রানের পাহাড় খাড়া করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংয়ে নেমেই অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরেছে টাইগাররা। দলীয় মাত্র ৪ রানে অজি ওপেনার ওয়েদারাল্ডকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে অজিদের ম্যাচ বাঁচানোর পথ আরও রুদ্ধ করে দিয়েছেন টাইগার বোলাররা।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাস ও অতীত পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচের মোড় ঘোরানো স্বাগতিকদের জন্য প্রায় অসম্ভব এক মিশন। একবিংশ শতাব্দীতে প্রথম ইনিংসে ২০০-এর বেশি রানে পিছিয়ে পড়ার পর অজিরা কেবল একবারই (২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের ২০৬ রানের লিড ডিঙিয়ে) জয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছিল। এছাড়া ২০০০ সালের পর থেকে ১৫০ বা তার বেশি রানে পিছিয়ে পড়ার পর ক্যাঙ্গারুরা টেস্ট জিততে পেরেছে মোটে তিনবার। সমগ্র টেস্ট ইতিহাসে ২০০ রানের বেশি ঘাটতি হজম করে ৮২টি ম্যাচের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৩টিতে জয় হাসিল করতে পেরেছে।
ঘরের মাঠে অজিদের এমন ব্যাকফুটে চলে যাওয়াটাও বেশ বিরল। ২০১৯ সালে সিডনিতে ভারতের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর এই প্রথম নিজেদের মাটিতে ২০০-এর বেশি রানে পিছিয়ে পড়ল অস্ট্রেলিয়া। যদিও ১৯৯২ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২৯৭ রান কিংবা ১৯৫০ সালে ২৩৬ রানের বিশাল ঘাটতি ডিঙিয়ে জয়ের অলৌকিক অতীত অজিদের রয়েছে, কিন্তু ডারউইনে বর্তমান বোলিং তোপের মুখে সেই রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটানো ক্যাঙ্গারুদের জন্য কল্পনাতীত। সব মিলিয়ে, রেকর্ড আর দাপটের সমন্বয়ে টাইগাররা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষায়; ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম নতুন করে স্বর্ণাক্ষরে লিখে বিজয়ের পতাকাকে উঁচিয়ে ধরার।