স্পোর্টস ডেস্ক
১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
পরম মমতায় যে বাবা একদিন ফুটবল পায়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তাকে চিরতরে বিদায় জানানোর মুহূর্তটি যে কোনো সন্তানের জন্যই চরম বেদনার। লিওনেল মেসিও চেয়েছিলেন জীবনের এই কঠিনতম সময়টা কেবল পরিবারের আপনজনদের সঙ্গেই পার করতে। কিন্তু সুপারস্টারদের জীবনে বোধহয় একান্ত ব্যক্তিগত বলে কিছু থাকে না! শোকের এই নীরবতার মাঝেই আকাশ থেকে উঁকি দিল ড্রোনের ক্যামেরা, যা জন্ম দিয়েছে তীব্র বিতর্কের।
রোববার দুপুরে আর্জেন্টিনার রোজারিওর এল প্রাদো কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। ৬৮ বছর বয়সে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। বাবার শেষ যাত্রায় সঙ্গী হতে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ বিমানে ছুটে আসেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি, ভাইবোনসহ কাছের মানুষদের নিয়ে সম্পূর্ণ পারিবারিক আবহে এই বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
পরিবারের চাওয়া অনুযায়ী শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত গোপনীয় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শনিবার দুপুর থেকেই কবরস্থান এলাকায় সাধারণের প্রবেশাধিকার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়। কেবল পূর্ব-অনুমোদিত গাড়িগুলোই ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছিল। কিন্তু নিশ্ছিদ্র এই নিরাপত্তার দেয়াল টপকে যায় কিছু বুয়েনস আইরেস-ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল। তারা শোকাহত পরিবারের একান্ত মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করতে কবরস্থানের ওপর দিয়ে ড্রোন ওড়াতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সান্তা ফে শহরের পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় ড্রোন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হয়।
শোকের এমন স্পর্শকাতর মুহূর্তে গণমাধ্যমের এমন আগ্রাসী আচরণে চরম ক্ষুব্ধ মেসি পরিবার। জানা গেছে, বিশ্বকাপজয়ী তারকার আইনি দল এরই মধ্যে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই সব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মানুষ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অন্যের ব্যক্তিগত শোককে এভাবে পুঁজি করার চেষ্টা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
তবে ভেতরে যখন অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতি চলছে, কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে তখন ছিল ভিন্ন এক চিত্র। প্রিয় তারকার এই শোকের দিনে সমবেদনা জানাতে সেখানে ভিড় করেছিলেন অসংখ্য ভক্ত। তাদেরই একজন ১৫ বছরের কিশোর লুকাস ব্লাঙ্কো, যে কিনা প্রিয় ফুটবলারকে মানসিক সমর্থন জোগাতে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে এসেছিল। ভক্তদের হাতের প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল ‘শক্ত থাকো, মেসি’।