স্পোর্টস ডেস্ক
১০ আগস্ট ২০২৬, ০২:১২ পিএম
যশোরে চলছিল অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের আবাসিক ক্যাম্প। হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্স জানিয়ে দিলেন, তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, পরিবারকে খাবারের টাকা পাঠাতে পারছেন না, আর নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়েও চরম ভয় পাচ্ছেন। এই আকস্মিক স্বীকারোক্তিতে বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আমি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত ও বিষণ্ণ। নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আমি গভীরভাবে চিন্তিত। প্রতিনিয়ত আমাকে ভুল বোঝাবুঝি আর তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হতে হচ্ছে। আজও তেমনই এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি।’
ব্রিটিশ কোচ আরও লেখেন, ‘আমি বেতনের অপেক্ষায় আছি। আমার পকেটে কোনো টাকা নেই। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, স্ত্রী ও সন্তানদের খাবারের জন্য আমি কোনো টাকা পাঠাতে পারছি না।’ পোস্টের শেষদিকে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘আমি আমার জীবন নিয়ে শঙ্কিত এবং চরম ভয়ের মধ্যে আছি।’
আসন্ন অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বকে সামনে রেখে যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে ক্যাম্প পরিচালনা করছিলেন তিনি। পোস্টটি দেওয়ার পরই ক্যাম্প ছেড়ে তাড়াহুড়ো করে ঢাকায় ফিরে আসেন।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তবে তার অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফেডারেশনের দাবি, কোচের কোনো বেতন বকেয়া নেই। চুক্তি অনুযায়ী সব অর্থ তার নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। মূল সমস্যা হলো ব্যাংকিং ও করসংক্রান্ত কিছু আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতায় তিনি টাকা নিজ দেশে পাঠাতে পারছেন না। এটিকে তারা সাধারণ প্রশাসনিক বিলম্ব হিসেবে দেখছে।
পোস্টে নিরাপত্তার কথা উল্লেখ থাকলেও ক্যাম্পে কোনো নির্দিষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে কোচ স্পষ্ট কিছু বলেননি। এই বিতর্কিত পোস্ট এবং আকস্মিক ঢাকা ফেরার পর বাফুফের সঙ্গে তার পেশাদার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।