স্পোর্টস ডেস্ক
১০ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
২০১৩ সালে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিদায়ের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যানেজার হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে কেন তিনি চেলসিতে যোগ দিয়েছিলেন, সেই রহস্য দীর্ঘ এক দশক পর উন্মোচন করলেন হোসে মরিনিয়ো। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তৈরি একটি নতুন নেটফ্লিক্স প্রামাণ্যচিত্রে ৬৩ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড জানান, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফার্গুসনের স্থলাভিষিক্ত হতে তিনি চুক্তিতে সইও করেছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে আবেগের টানে চেলসিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রামাণ্যচিত্রে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন বলেন, "হ্যাঁ, তাঁকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচের পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমি তাঁর সাথে বসে বিষয়টি বুঝিয়েছিলাম এবং তিনি তা গ্রহণও করেছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো চিত্র বদলে যায়। এক রাতে সে আমাকে ফোন করে কেঁদে ফেলে এবং বলে, 'অ্যালেক্স, আমি এটা গ্রহণ করতে পারছি না। আমি চেলসিকে কথা দিয়েছি এবং সেই কথা আমি ভাঙব না।' ফার্গুসন জানান, মরিনিয়োর যুক্তি তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তবে সিদ্ধান্তটিতে তিনি হতাশ হয়েছিলেন।
মরিনিয়ো স্বীকার করেন, ফার্গুসনের মতো কিংবদন্তির উত্তরসূরি হওয়ার সুযোগটি ফিরিয়ে দেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তবে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর তাঁর ভালোবাসার ক্লাবে ফেরার প্রয়োজন ছিল। মরিনিয়ো বলেন, "ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এক জিনিস, আর নির্দিষ্ট কোনো ক্লাবের প্রতি আবেগ অন্য জিনিস। ফুটবলের ভালোবাসার চেয়েও এটি অনেক শক্তিশালী। রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর আমার এমন জায়গায় যাওয়া দরকার ছিল যেখানে আমি ভালোবাসা অনুভব করব। ফার্গুসনের উত্তরসূরি হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা কষ্টকর হলেও হৃদয়ের কথা শুনে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের জন্য আমার কোনো আফসোস নেই।"
২০১৩ সালে চেলসিতে ফিরে নিজের তৃতীয় প্রিমিয়ার লিগ ও লিগ কাপ জেতেন মরিনহো। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে লুই ফান হাল বিদায় নেওয়ার পর অবশেষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হন তিনি। সেখানে দুই ও আড়াই বছরের মেয়াদে লিগ কাপ এবং ইউরোপা লিগ জিতলেও ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে বরখাস্ত হন তিনি।
প্রামাণ্যচিত্রে চেলসির সাবেক মালিক রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গে তাঁর জটিল সম্পর্ক নিয়েও মুখ খোলেন মরিনিয়ো। ২০০৬ সালে এসি মিলান থেকে আন্দ্রি শেভচেঙ্কোকে সই করানোর পেছনে আব্রামোভিচের চাপের কথা উল্লেখ করে পর্তুগীজ এই কোচ বলেন, "আব্রামোভিচের ফুটবলের প্রতি দারুণ আবেগ ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল শূন্য। শেভচেঙ্কোকে আমি কখনোই চাইনি, আমার পছন্দ ছিল সামুয়েল এতো। তবে আমি কখনো না বলিনি, তাই এর দায় আমারও।"
পরে ২০১০ সালে ইন্টার মিলানের কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে মরিনিয়ো বলেন, "ওই ম্যাচটি আমি খেলেছিলাম এমন একজনের বিরুদ্ধে, যে আমাকে বরখাস্ত করেছিল। ফুটবল আব্রামোভিচের মতো অনুপ্রবেশকারীদের নয়; এটি কোচ, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের।"