স্পোর্টস ডেস্ক
০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে হত্যার ছক এবং স্টেডিয়াম উড়িয়ে দেওয়ার বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে লিক হওয়া পুলিশের গোপন নথিতে (পুলিশ ডোসিয়ার) এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শুধু মেসিই নন, টুর্নামেন্টজুড়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপেসহ একাধিক তারকা খেলোয়াড় ও রেফারি চরম নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছিলেন।
ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে টুর্নামেন্ট চলাকালে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ হামলার চেষ্টা এবং হুমকির মুখোমুখি হন মেসি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাটি ঘটে ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে। ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করে, সে এবং তার আরও দুই সহযোগী আইইডি (ঘরে তৈরি বোমা) এবং এআর-১৫ অটোমেটিক রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে এগোচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য পুলিশ এবং দুই দলের খেলোয়াড় হলেও, মেসিকে বিশেষভাবে হত্যা করার কথা উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে ৭ জুলাই অ্যাটলান্টায় মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) এক ব্যক্তি পোস্ট করে লেখেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত। একই দিনে স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে বোমা রাখার কথা জানিয়ে পুলিশের কাছে ফোন আসলে তাৎক্ষণিকভাবে বম্ব স্কোয়াড ও স্পেশাল ডগ স্কোয়াড এনে পুরো স্টেডিয়াম তল্লাশি করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু মেসির ওপরই নয়, পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে কড়া স্টকিং বা নজরদারির শিকার হন। হিউস্টনে রোনালদোর হোটেল রুমের গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে, প্যারাগুয়েকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়ার পর ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে চরম বিদ্বেষ ছড়ানো হয় এবং তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। মিসর ও আর্জেন্টিনার বিতর্কিত ম্যাচের পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ৬ হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ কোঅপারেশন সেন্টার যৌথভাবে এসব হামলা ও হুমকির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করায় টুর্নামেন্টে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।