Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

৫০০০তম ম্যাচের মাইলফলকে ওয়ানডে ক্রিকেট

স্পোর্টস ডেস্ক

০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

শুক্রবার ডান্ডিতে স্কটল্যান্ড যখন কানাডার মুখোমুখি হবে, তখন পুরুষদের ওডিআই ফরম্যাট এক নতুন মাইলফলকে পৌঁছাবে। এই সংস্করণের ৫,০০০তম ম্যাচ খেলবে দুই দল।

১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে এই ফরম্যাটের জন্ম হয়েছিল এবং এই ৫৫ বছরে এটি ক্রমাগত বিবর্তিত হয়েছে। ৫,০০০ ম্যাচকে ১,০০০ ম্যাচের ৫টি ব্লকে ভাগ করলে বিষয়টি আমাদের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথম ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে ম্যাচের দৈর্ঘ্যে বেশ বৈচিত্র্য দেখা গিয়েছিল। প্রথম তিনটি ওডিআই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ছিল ৬০ ওভারের, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোর দৈর্ঘ্য ছিল ৫৫ ওভার করে।

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তানে প্রথমদিকের ম্যাচগুলো ছিল ৪০ ও ৩৫ ওভারের (প্রতি ওভারে ৮টি করে বল)। আর এশিয়ায় খেলা হতো ৪০ ওভারের ম্যাচ (প্রতি ওভারে ৬টি করে বল)। নির্ধারিত ৫০ ওভারের বাইরে খেলা হওয়া পুরুষদের শেষ ওডিআইটি ছিল ১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ১০০২তম ম্যাচ, যা ছিল ৫৫ ওভারের ম্যাচ।

২৪ বছরে ১,০০০ ওডিআই থেকে ৩১ বছরে ৪,০০০ ওডিআই

১,০০০তম ওডিআই ম্যাচটি খেলা হয়েছিল ১৯৯৫ সালের সেই একই ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে, নটিংহ্যামে; যে ম্যাচটি রিজার্ভ ডে-তে গড়িয়েছিল। প্রথম ১,০০০ ওডিআই ম্যাচ খেলতে সময় লেগেছিল ২৪ বছর; আর পরবর্তী ৩১ বছরে খেলা হয়েছে আরও ৪,০০০ ওডিআই।

ওডিআইয়ের দ্বিতীয় ১,০০০ ম্যাচ খেলা হয়েছিল ৮ বছরের মধ্যে, যা প্রথম ১,০০০ ম্যাচ খেলতে লাগা সময়ের তিন ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের আগমন সত্ত্বেও ওডিআই ম্যাচের সংখ্যা সাথে সাথেই কমে যায়নি।

প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার বছর ২০০৭ সালে মোট ১৯১টি ওডিআই ম্যাচ খেলা হয়েছিল, যা এক বছরে সর্বোচ্চ ওডিআই খেলার রেকর্ড গড়ে; ২০০৬ সালের ১৬০টি ম্যাচের রেকর্ডকে তা ছাড়িয়ে যায়। তৃতীয় ১,০০০ ম্যাচের ব্লকটি খেলা হয়েছিল ২৬৩০ দিনে, যা যেকোনো ব্লকের মধ্যে দ্রুততম।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক ওডিআই বিশ্বকাপের বছর ২০২৩ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ২১৮টি ম্যাচ খেলার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। এমনকি এর আগের বছরও ১৬১টি ওডিআই ম্যাচ খেলা হয়েছিল। কিন্তু ১,০০০ ম্যাচের পঞ্চম ব্লকটি সম্পন্ন হতে লেগেছে ৩০৬৫ দিন। ২০২০ সালের মহামারীজনিত বিরতি, টি-টোয়েন্টি লিগের চাপ এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজের দৈর্ঘ্য হ্রাস পাওয়াই ওডিআই ম্যাচের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

ক্রমাগত বাড়তে থাকা রান তোলার হার

১৯৭১ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে খেলা প্রথম ১,০০০ ওডিআইতে প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়া বা ৫০ ওভার পূর্ণ হওয়া দলের গড় স্কোর ছিল মাত্র ২১৩.৯। দ্বিতীয় ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩২.৬২-এ। পরবর্তীতে পরবর্তী ব্লকগুলোতে তা যথাক্রমে ২৪০.৪ এবং ২৫০.৬৭-এ উন্নীত হয়। তবে সবচেয়ে সাম্প্রতিক ব্লকে এই গড় কিছুটা কমে ২৪৯.৯৭-এ নেমে এসেছে।

কিন্তু বড় স্কোরের সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; সবচেয়ে সাম্প্রতিক ১,০০০ ম্যাচে ৩০০-এর বেশি রানের ইনিংস দেখা গেছে ৩২১টি। এর মধ্যে ৮৬টি ছিল ৩৫০-এর বেশি রান, যার মধ্যে ৪শ রান অতিক্রম করেছে ১৪টি ইনিংসে। অন্যদিকে প্রথম ৩,০০০ ম্যাচ মিলিয়ে ৩০০ বা তার বেশি রানের মোট সংখ্যা ছিল ৩৬০টি এবং ৩৫০-এর বেশি রান ছিল মাত্র ৪৭টি।

বড় রান কেবল প্রথমে ব্যাট করা দলগুলোর কাছ থেকেই আসেনি, রান তাড়া করা দলগুলোর কাছ থেকেও এসেছে। শেষ ১,০০০ ওডিআইতে রান তাড়া করা দলগুলো ৯০ বার ৩০০-এর বেশি রান সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ৪৪ বার ৩০০-এর বেশি রান তাড়া করে জয় এসেছে, আর ৩৫০ রান পার হয়েছে ১৪ বার- যা প্রথম ৪,০০০ ওডিআইয়ের মোট রেকর্ডের (১০ বার) চেয়েও ৪টি বেশি।

প্রথম ১,০০০ ওডিআইতে গড় রান রেট ছিল ৪.৩৫, যা পঞ্চম ১,০০০ ম্যাচের ব্লকের (৫.২৯) চেয়ে ওভারপ্রতি প্রায় ১ রান কম। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ স্কোরের ওডিআই ম্যাচের সংখ্যা অনেক বাড়লেও, চতুর্থ থেকে পঞ্চম ব্লকে সামগ্রিক রান রেট বেড়েছে মাত্র ০.০৮। এর একটি বড় কারণ হলো সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) দেশগুলোর মধ্যকার ম্যাচগুলো, যেগুলো সাধারণত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও খুব বেশি উচ্চ স্কোরের হয় না।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক ১,০০০ ওডিআই ব্লকে পূর্ণ সদস্য দলগুলোর মধ্যে ৭১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে রান রেট ছিল ৫.৫৩ এবং প্রতি উইকেটে গড় রান ছিল ৩২.৪৬। সহযোগী দেশগুলোর মধ্যকার ২৮৮টি ম্যাচে (যার মধ্যে ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ ২-এর ২৩৮টি ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত) এই দুটি সংখ্যাই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যথাক্রমে ৪.৭২ এবং ২৬.৪৪-এ নেমে এসেছে।

বেশি রান, বেশি ছক্কা এবং বেশি উইকেট

ব্যাটিং গড় প্রথম ব্লকের ২৬.৩৯ থেকে বেড়ে সর্বশেষ ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে ২৯.০৩-এ পৌঁছেছে, অন্যদিকে স্ট্রাইক রেট ৬৬.১৫ থেকে লাফিয়ে ৮৩.৪-এ দাঁড়িয়েছে। চার-ছক্কা মারার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্ট্রাইক রেট এতোটা বেড়েছে। দুই দশক আগের তুলনায় এখন দ্বিগুণ গতিতে বাউন্ডারি মারা হচ্ছে।

ওডিআইয়ের দ্বিতীয় ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে প্রতি ১২৭.০১ বলে একটি ছক্কা হতো এবং প্রতি ম্যাচে গড়ে ৪.৩০টি ছক্কা মারা হতো। আর সবচেয়ে সাম্প্রতিক ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৯.২৯টি ছক্কা হচ্ছে এবং প্রতি ৫৫.৪২ বলে একটি ছক্কা হচ্ছে। প্রতি ম্যাচে বাউন্ডারি বা চার মারার সংখ্যাও প্রায় ১০টি করে বেড়েছে (৩৮.০৫ থেকে ৪৮.০৭)।

বেশি উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে বোলাররাও লাভবান হয়েছেন। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে বোলাররা প্রতি ৩৬.৮ বলে একটি করে উইকেট নিচ্ছেন, যা ৫টি ব্লকের মধ্যেই সেরা; প্রথম ১,০০০ ম্যাচে যা ছিল প্রতি উইকেটে ৪৫ বল। সামগ্রিক ইকোনমি রেট ওভারপ্রতি ১ রান বেড়ে ৪.১৪ থেকে ৫.২ হয়েছে, যা খেলার বর্তমান দ্রুত রান তোলার ধরণকে প্রতিফলিত করে। বোলিং স্ট্রাইক রেটের পাশাপাশি ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার (ফাইফার) সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে- প্রথম ১,০০০ ম্যাচে ৯৫টি থেকে বেড়ে সাম্প্রতিক ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে তা দাঁড়িয়েছে ১৭৭-এ।

৫০-ই এখন নতুন ৪০

প্রথম ব্লক থেকে পঞ্চম ব্লকে আউটপ্রতি ব্যাটিং গড়ের পার্থক্য তিন রানের কম হলেও, ব্যক্তিগত গড় দেখলে বড় চিত্রটি প্রকাশ পায়। সবচেয়ে সাম্প্রতিক ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে ২,০০০-এর বেশি রান করা ৫৬ জন ব্যাটারের মধ্যে ৩৩ জনেরই গড় ৪০ বা তার বেশি, যার মধ্যে ১১ জনের গড় ৫০-এর উপরে।

প্রথম ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে ন্যূনতম ২,০০০ রান করা কোনো ব্যাটারেরই ৫০-এর বেশি গড় ছিল না এবং শর্ত পূরণ করা ৫০ জন ব্যাটারের মধ্যে মাত্র ১০ জনের গড় ছিল অন্তত ৪০।

ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেটেও একই ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়- সবচেয়ে সাম্প্রতিক ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে ২০ জনের স্ট্রাইক রেট ছিল ৯০-এর বেশি এবং মাত্র ১২ জনের স্ট্রাইক রেট ছিল ৮০-এর কম। ১৯৭১ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে মাত্র ২ জন ব্যাটার ছিলেন যাদের স্ট্রাইক রেট ছিল ৯০-এর বেশি এবং আরও ৪ জনের স্ট্রাইক রেট ছিল ৮০-এর বেশি।

বদলে যাওয়া সময়ের চিত্রটা বুঝতে গেলে দেখা যায়, প্রথম ১,০০০ ওডিআইতে একমাত্র ভিভ রিচার্ডস ৮০-এর বেশি স্ট্রাইক রেট এবং ৪০-এর বেশি গড় নিয়ে ২,০০০-এর বেশি রান করেছিলেন। আর সবচেয়ে সাম্প্রতিক ১,০০০ ওডিআইতে ২৫ জন ব্যাটার এই ডাবল অর্জন করেছেন।

প্রথম ব্লকে রিচার্ডসের গড় (৪৭) এবং স্ট্রাইক রেট (৯০.২) দুটিই ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অথচ পঞ্চম ব্লকে ২০ জন ব্যাটারের স্ট্রাইক রেট তাঁর চেয়ে বেশি এবং ১৪ জন ব্যাটারের গড় তাঁর চেয়ে উন্নত।

হেইন্স থেকে হোপ, আকরাম থেকে জ্যাম্পা

প্রথম ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে ৮,৬৪৮ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন ডেসমন্ড হেইন্স। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি ওডিআইতে সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হিসেবে বহাল ছিলেন, পরে মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন তাঁকে ছাড়িয়ে যান। দ্বিতীয় ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে শচীন তেন্ডুলকরের ৯,১৪৯ রান ২০০০ সালে তাঁকে শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত করে। এরপর থেকে তিনিই শীর্ষে রয়েছেন।

প্রথম ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে ওয়াসিম আকরামের ২৭৩টি উইকেট ছিল সর্বোচ্চ, এবং ১৯৯৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই ফরম্যাটে শীর্ষ উইকেট শিকারি ছিলেন, যতক্ষণ না মুত্তিয়া মুরালিধরন তাঁকে অতিক্রম করেন। মুরালিধরন এখনও সেই রেকর্ড ধরে রেখেছেন।

মুরালিধরন দ্বিতীয় ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে ৩০০টি উইকেট নেন এবং তৃতীয় ব্লকে আরও ১৯০টি উইকেট নেন, তবে সেই সময়ে ব্রেট লি-র ২০২টি উইকেটের পেছনে ছিলেন তিনি। চতুর্থ ১,০০০ ম্যাচের ব্লকে লাসিথ মালিঙ্গার ২০৪টি উইকেট ছিল সর্বোচ্চ, অন্যদিকে রিকি পন্টিং (৬,৯৫৪) এবং বিরাট কোহলি (৮,৫৩৪) তৃতীয় ও চতুর্থ ব্লকে ব্যাটিংয়ের সেরা সম্মান ছিনিয়ে নেন।