স্পোর্টস ডেস্ক
০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সরকারের পতন এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলেও ব্রাত্য হয়ে আছেন সাবেক এই এক নম্বর অলরাউন্ডার। কয়েকবার তাকে দেশে এবং দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। সাকিবও বেশ কয়েকবারই দেশে ফিরতে চেয়েছেন, ঘরের মাটিতে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলতে চেয়েছেন। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও এসব নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
বাংলাদেশে সাকিবের নামে ঝুলছে একাধিক মামলা। তিনি দেশে ফিরে এসব মামলা লড়তে প্রস্তুত বলেই জানিয়েছেন রয়টার্সকে। তবে দেশে ফেরার আগে সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকে যদি আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তবে আমি আনন্দের সাথেই দেশে ফিরতে, আদালতের মুখোমুখি হতে এবং যা কিছু করা দরকার তা করতে প্রস্তুত। কারণ আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।"
এদিকে গত ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পলাতক ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গণমাধ্যমে সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সাকিবও। রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে শেখ হাসিনা বা দল থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে সাকিব রয়টার্সকে বলেন, "ক্যাপ্টেন (শেখ হাসিনা) যা বলবেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করব। আমার মনে হয় উনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তাদের দেওয়া নির্দেশনাই আমরা মেনে চলব।"
দেশে ফেরার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, "আমাকে নিশ্চিত করার পর বিমানে উঠেছিলাম, কিন্তু ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে কী পরিবর্তন হলো জানি না! মাঝপথে দুবাইয়ে নামার পর আমাকে দেশে ফিরতে বারন করা হয়। পরে শুনলাম ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পোস্ট করার কারণে নাকি আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটি দেশে না ঢুকতে দেওয়ার কেমন মানদণ্ড, তা আমার মাথায় আসে না।"
নিজের নামে থাকা হত্যা মামলার বিষয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে সাকিব বলেন, "এটি অত্যন্ত হাস্যকর একটি মামলা। আমি গত ১০ বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ করদাতা, সব কর ঠিকমতো পরিশোধ করেছি, অথচ তদন্তের নামে দেড় বছর ধরে আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্তে কিছু না পেলে তা ছেড়ে দেওয়া উচিত।"