স্পোর্টস ডেস্ক
০৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
কেবল ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ওপর ভর করে কোনো ফুটবলারের পেছনে ১৪০ মিলিয়ন ইউরো বাঁ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা খরচ করে না রিয়াল মাদ্রিদ। আরবি লাইপজিগ থেকে ১৯ বছর বয়সী আইভরি কোস্টের রাইট-উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দেকে সাত বছরের চুক্তিতে দলে ভিড়িয়ে ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম দামী এক তরুণ তুর্কির আগমন নিশ্চিত করেছে লস ব্লাঙ্কোসরা।
মোট ট্রান্সফার ফি-এর হিসেবে এই চুক্তিটি তিন বছর আগে বোরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে জুড বেলিংহামকে কিনতে রিয়ালের খরচ হওয়া ১৩৩.৯ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এখন বড় প্রশ্ন হলো- হোসে মরিনহোর পুনর্গঠিত রিয়াল মাদ্রিদকে আবারও শীর্ষে ফেরাতে দিয়োমান্দেই কি সেই কাঙ্ক্ষিত অস্ত্র?
গত কয়েক মৌসুম ধরেই একজন খাঁটি রাইট-উইঙ্গারের অভাবে ভুগছিল রিয়াল। রদ্রিগোর হাঁটুর দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরির কারণে ফেদে ভালভের্দে, বেলিংহাম কিংবা আর্দা গুলারকে নিজেদের পজিশন ছেড়ে উইঙে খেলতে হয়েছে। গ্রীষ্মে বের্নার্দো সিলভা আসলেও তাঁকে সেন্ট্রাল ক্রিয়েটর হিসেবেই দেখছে ক্লাব। দিয়োমান্দে আসার পর সেই শূন্যতা দূর হবে।
গত মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের উইঙ্গারদের মধ্যে প্রতি ৯০ মিনিটে ড্রিবলিংয়ের দিক থেকে সেরা তালিকায় ছিলেন দিয়োমান্দে (৫৫% সফলতা)। ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড কিংবা ডেনজেল ডামফ্রিজের মতো ফুল-ব্যাকরা যখন ওভারল্যাপ করবেন, তখন দিয়োমান্দে উইঙে থেকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবেন অথবা ভেতরে ঢুকে জায়গা তৈরি করতে পারবেন।
হোসে মরিনহো দলের কাছ থেকে তীব্র গতি, রক্ষণের সুশৃঙ্খলতা এবং দ্রুত আক্রমণাত্মক ট্রানজিশন চান। দিয়োমান্দের শারীরিক সক্ষমতা, পরিশ্রমী মনোভাব ও গতি মরিনহোর এই ঘরানার সাথে পুরোপুরি মানানসই।
তবে লা লিগায় রিয়ালের বিপক্ষে বেশিরভাগ দলই নিচে নেমে জমাট রক্ষণ বজায় রেখে খেলে। সেখানে ছোট জায়গায় ডায়ামান্ডের সৃজনশীলতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার আসল পরীক্ষা হবে। ছাড়া বল হারানোর পর হতাশা প্রকাশ করা কিংবা ট্র্যাকিং-ব্যাক করার মানসিকতা ১৯ বছর বয়সী এই তরুণের আরও বাড়াতে হবে, যা না করলে মরিনহোর অধীনে টিক থাকা কঠিন।
১৪০ মিলিয়ন ইউরোর এই বড় বিনিয়োগ কতটা সফল হবে তা সময়েই বলে দেবে, তবে রিয়াল মাদ্রিদ বিশ্বাস করে তারা এমন এক তরুণকে পেয়েছে যিনি ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি মরিনহোর টেকটিক্যাল ব্লুপ্রিন্টেও নিখুঁতভাবে মানিয়ে যাবেন।