স্পোর্টস ডেস্ক
০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
একটি ম্যাচ কখনও কখনও শুধু জয়-পরাজয়ের গল্প নয়, বরং একটি জাতির আবেগ, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ১৫ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত এএফএর নির্বাহী পরিষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের জয়কে স্মরণ করতেই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে।
সেই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল লিওনেল স্কালোনির দল। তবে শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোল আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেয়। এই জয়ের পর সারা দেশে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়, রাস্তায় নেমে উৎসবে মেতে ওঠেন লাখো সমর্থক।
তবে ম্যাচ-পরবর্তী উদযাপন বিতর্কও সৃষ্টি করে। জয়ের পর আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা মাঠে ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। এই ঘটনায় ইংল্যান্ডে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং যুক্তরাজ্য সরকার ফিফার কাছে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানায়।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ফিফা কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি সেমিফাইনালের রাজনৈতিক বার্তা, বর্ণবাদী আচরণ ও আপত্তিকর স্লোগানের অভিযোগেও এএফএর বিরুদ্ধে তদন্ত চলে।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই খেলোয়াড়দের ব্যানার প্রদর্শনকে ‘সম্পূর্ণ বৈধ’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, এটি আর্জেন্টাইন জনগণের দীর্ঘদিনের অনুভূতিরই প্রতিফলন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এ কারণে ফিফার পক্ষ থেকে শাস্তি বা আর্থিক জরিমানা আসতে পারে। বাম
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আলমিরান্তে ব্রাউনও নতুন জার্সিতে একই ধরনের মালভিনাস-সংক্রান্ত স্লোগান ব্যবহার করেছে, যা দেশটিতে বিষয়টির প্রতি আবেগ ও সমর্থনের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া বলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই জয় আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। তাঁর মতে, ওই ম্যাচের পর পুরো দেশ বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে এই দলকে হারানো প্রায় অসম্ভব। তাই ১৫ জুলাইকে জাতীয় ফুটবল দল দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া কেবল একটি ম্যাচের স্মরণ নয়, বরং জাতীয় গর্ব ও ঐক্যের প্রতীক।