স্পোর্টস ডেস্ক
০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বাধীন শীর্ষ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সাবেক সহ-সভাপতি প্রিন্স আলী বিন আল হুসেইন। জাতীয় দলের পাওনা প্রাইজমানি আটকে রেখে জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে অনৈতিকভাবে 'ব্ল্যাকমেইল' করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলী জানান, গত ডিসেম্বরে কাতারে অনুষ্ঠিত ফিফা আরব কাপের ফাইনালে ওঠার পর যে অর্থ পাওনা ছিল, তা এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি।
গত জুনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া জর্ডান দলের এই প্রধান জানান, বিশ্বকাপ চলাকালে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে তিনি যদি ইনফান্তিনোকে ফিফা সভাপতি পদে সমর্থন দেন, তবে জর্ডান ফুটবল ফেডারেশনের জন্য এই বকেয়া অর্থ ছাড় পাওয়া অনেক সহজ হবে।
এই প্রলোভনের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দিয়ে ২০১৬ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রিন্স আলী বলেন, "জর্ডানে আমরা নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখা নিয়ে গর্ববোধ করি। আমরা তাঁকে আগেও সমর্থন দিইনি, আর নিশ্চিতভাবেই এখনও করব না। তবে পুরো পরিস্থিতি ব্ল্যাকমেইলের পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আমরা কোনোভাবেই এতে নতি স্বীকার করব না।"
জর্ডানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ ফিফা আরব কাপের ফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরে রানার্সআপ হওয়া জর্ডানের পাওনা প্রাইজমানির পরিমাণ ছিল ৪.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ফিফার তহবিলের সমালোচনা করে জর্ডানের এই রাজপুত্র বলেন, "ফাইনালে ওঠার পর আমাদের দলের যে অর্থ পাওয়ার কথা তা এখনও দেওয়া হয়নি, অথচ ফিফা নিজেদের রিজার্ভে কোটি কোটি ডলার আছে বলে বড়াই করে। সমস্যাটি আসলে তাদের প্রশাসনিক শীর্ষ নেতৃত্বে। কয়েক মাস ধরে তারা এই বিষয়গুলো বা অন্যান্য বিষয়ে আমাদের কোনো সহায়তা করতে অস্বীকার করছে।"
ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ব্যক্তিমালিকানাধীন বিনিয়োগ পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর এমনিতেই ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা তাঁর ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছে এবং আগামী বছরের নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। তার মধ্যেই এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য জর্ডানের পক্ষ থেকে এমন গুরুতর ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ ইনফান্তিনোর ওপর পদত্যাগের চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।