Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

অবশেষে জার্সিতে নিজের নাম লেখার অনুমতি পেলেন কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক

০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

জর্সি বা জার্সিতে ছদ্মনাম বা ডাকনাম ব্যবহার করা চিলির ফুটবল লিগের নিয়মে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বিশ্বকাপ মাতিয়ে আসা কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যার আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াসের জন্য বিশেষ সেই নিয়ম শিথিল করেছে চিলির ফুটবল ফেডারেশন। চিলিয়ান জায়ান্ট ক্লাব কোলো কোলোর জার্সিতে নিজের জনপ্রিয় ডাকনাম 'ভোজিনিয়া' লিখেই এখন মাঠে নামবেন তিনি।

চলতি সপ্তাহে ছয় মাসের চুক্তিতে কোলো কোলোতে যোগ দিয়েছেন ভোজিনিয়া। চিলির লিগের নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়দের কেবল নিবন্ধিত আনুষ্ঠানিক নামই জার্সিতে ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু কোলো কোলো কর্তৃপক্ষের বিশেষ আপিলের পর এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে ব্যতিক্রমী ছাড়পত্র দিয়েছে লিগ কমিটি। পর্তুগিজ ভাষায় 'ভোজিনিয়া' শব্দের অর্থ "দাদি" বা "ঠাকুমা"।

জার্সিতে নিজের ডাকনাম ব্যবহারের অনুমতি পেয়ে রোমাঞ্চিত এই গোলরক্ষক সাংবাদিকদের বলেন, "জীবনের পুরোটা সময় আমি এই নামেই খেলে এসেছি। কেপ ভার্দেতে এই নামের পেছনে গভীর আবেগ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে, যা এখন বিশ্বজুড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। আমার দাদি আজ বেঁচে থাকলে নিশ্চিতভাবেই গর্বিত হতেন। ক্যারিয়ারের বাকি সময়টুকতেও তাঁকে সম্মান জানাতে এই নামটা ধরে রাখতে চাই।"

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করে রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা বনে যান ভোজিনিয়া। তাঁর দুর্দান্ত সেভের ওপর ভর করেই শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে ড্র করে নিজেদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটি। পরবর্তীতে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত আটকে রেখে চমক সৃষ্টি করেছিল তারা।

টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার অফিসিয়াল 'টিম অব দ্য টুর্নামেন্ট'-এ জায়গা করে নেন ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে; মাত্র ৫০ হাজার থেকে এক লাফে ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী সংখ্যা পৌঁছে যায় প্রায় তিন কোটিতে। এমনকি সম্প্রতি আবিষ্কৃত সামুদ্রিক স্লাগের একটি নতুন প্রজাতির নামকরণও করা হয়েছে এই তারকার সম্মানে।

স্লোভাকিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস ও পর্তুগালে বিভিন্ন ক্লাবে খেলে আসা ভোজিনিয়া কোলো কোলোতে যোগ দেওয়াকে নিজের ক্লাব ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।