স্পোর্টস ডেস্ক
০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর তোপের মুখে থাকা ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো নিজের পদ বাঁচাতে ট্রাম্প প্রশাসনের শরণাপন্ন হওয়ার চেষ্টা করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'নিউ ইয়র্ক পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব ফুটবলে চরম সমালোচনার মুখে 'একঘরে' হয়ে পড়া ৫৬ বছর বয়সী এই ক্রীড়া প্রশাসক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন চাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার পরিকল্পনাটি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে ইনফান্তিনো একাধিকবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোনে পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক সংবাদের জোয়ার এবং ফুটবল মহলে পদত্যাগের তীব্র দাবির মুখে তিনি চরম একাকীত্ব ও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট আরও দাবি করেছিল যে, ইনফান্তিনো সোমবার সকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে একটি ব্যক্তিগত ফোনালাপের সময়সূচি নির্ধারণ করেছিলেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশ্ব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিলান জনসন সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই খবরটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানান, মার্কো রুবিওর সাথে ফিফা সভাপতির কথা বলার এমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না এবং কোনো ফোনালাপও হয়নি।
নতুন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টগুলোর প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার প্রাইভেট ইনভেস্টরদের কাছে বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার তোলার যে উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ ইনফান্তিনো নিয়েছিলেন, তীব্র বিরোধিতার মুখে গত শুক্রবার তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় ফিফা।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আগে থেকেই চর্চায় রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন মেগা ইভেন্টে তাঁদের একাধিকবার একসাথে দেখা গেছে। এমনকি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ প্রদান করেছিলেন ইনফান্তিনো নিজেই। এ ছাড়া বাতিল হওয়া এই বিশ্ব বাণিজ্য চুক্তির নেপথ্যে মূল বিনিয়োগকারী ছিল ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’, যার প্রতিষ্ঠাতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনার।
প্রাইভেট ফান্ডিংয়ের চুক্তিটি হাতছাড়া হওয়ার পর আগামী ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের জন্য পুনরায় ফিফা সভাপতি হওয়ার ইনফান্তিনোর স্বপ্ন এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।