স্পোর্টস ডেস্ক
০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
গ্লাসগোর রিংয়ে এক তরুণীর মুঠোয় এখন ইতিহাস। পাকিস্তানের সারগোধার ১৯ বছর বয়সী ফাতিমা কমনওয়েলথ গেমসের নারীদের ৬০ কেজি ক্যাটাগরিতে কোয়ার্টার ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের জর্ডান উইলসনকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন।
এরই মধ্যে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথম পাকিস্তানি নারী বক্সার হিসেবে পদক জয়ের এক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধায় বেড়ে ওঠার সময় ফাতিমা নিজের দেশে বক্সিং অঙ্গনে অনুসরণ করার মতো কোনো নারী মডেলকে খুঁজে পাননি। অগত্যা তিনি সীমান্তের ওপারে তাকান এবং খুঁজে নেন ভারতের মেরি কমকে।
ফাতিমা জানিয়েছেন, ভারতের কিংবদন্তি বক্সার মেরি কমই তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। মেরি কম ছয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ, ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ এবং ২০১৪ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জিতেছেন।
তিনি বলেন, “মেরি কম সবসময় আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে তৈরি সিনেমা দেখেছি, কারণ তাঁর যাত্রার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারি। তিনি কীভাবে শীর্ষে পৌঁছেছেন, তা আমি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখেছি। যদি তিনি এত কিছু করতে পারেন, তাহলে আমিও আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব, এই বিশ্বাসই আমাকে সবসময় এগিয়ে নিয়েছে।”
এখন ফাতিমার সামনে সেমিফাইনাল। শুক্রবার তিনি কানাডার মারিয়া বাথউল আল আহমাইয়ের মুখোমুখি হবেন। জিতলে ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবেন, যেখানে প্রতিপক্ষ হতে পারেন ভারতের প্রিয়া ঘাংঘাস অথবা কানাডার লুসি কিংস-হুইটলি।

পথটা সহজ ছিল না। ফাতিমা বলেন, “এই পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাকে অনেক কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। শুরুতে পরিবার বক্সিংয়ে আমার যোগ দিতে রাজি ছিল না। কিন্তু বাবা নিজে খেলোয়াড় ছিলেন বলে আমাকে সমর্থন করেছেন। কোচ ও পরিবারের উৎসাহেই আমি খেলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়েছি।”
ইতিমধ্যে ইতিহাস গড়লেও ফাতিমা মনে করেন, এটা শুধু শুরু। তাঁর লক্ষ্য ২০২৬ এশিয়ান গেমস ও ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে পদক জয়। তিনি বলেন, “আমি আরও অনেক কিছু অর্জন করতে চাই। আরও ম্যাচ জিততে চাই এবং পাকিস্তানকে গর্বিত করতে চাই। সেমিফাইনালে পৌঁছানো আমার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত, কারণ আমি কিছু সেরা বক্সারকে হারিয়ে এখানে এসেছি।”
২০২৫ সালে রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসেও তিনি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ফাতিমা আশা করেন, তাঁর এই সাফল্য পাকিস্তানের আরও তরুণীদের বক্সিংয়ে উৎসাহিত করবে। “মেরি কম যেমন ভারতের এক প্রজন্মের বক্সারদের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তেমনই আমার পদক পাকিস্তানের তরুণীদের এই চ্যালেঞ্জিং খেলায় উৎসাহিত করবে বলে আশা করি।”
সূত্র-পিটিআই, জিও নিউজ