স্পোর্টস ডেস্ক
০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
ফিফার শীর্ষে বসে থাকা জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবার এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা পুরো ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার চিন্তাই যথেষ্ট ছিল ঝড় তোলার জন্য। ইউরোপ থেকে আমেরিকা, এশিয়া সব কনফেডারেশন একসঙ্গে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করলে শেষ পর্যন্ত ফিফাকেই পিছু হটতে হয়েছে।
মঙ্গলবার ইনফান্তিনো ঘোষণা করেছিলেন, ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর কথা ছিল। পরিকল্পনায় ছিল, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা।
এই খবর বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। প্রথমে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ইউয়েফা সোচ্চার হয়। এরপর উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ জানায়, তাদের ৪১টি সদস্য সংস্থাই পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছে। পরে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও ইউয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়।
প্রতিবাদের ঢেউ এতটাই শক্তিশালী হয় যে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন। বাড়তে থাকা চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার সেই বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। এই ঘটনার পর ফুটবল মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের যুগ কি শেষের দিকে এগোচ্ছে?
২০১৬ সালে দুর্নীতির অভিযোগে সেপ ব্লাটারের বিদায়ের পর ইনফান্তিনো ফিফার দায়িত্ব নেন। সেবার এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাকে হারিয়ে তিনি সভাপতি হন। ফুটবলকে নতুন দিশা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু করা এই সুইস-ইতালীয় নেতা পরে আরও দুই মেয়াদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন। এখন তার বয়স ৫৬।
তবে সাম্প্রতিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর কারণে তিনি এখন চাপের মুখে। ইউয়েফা ইতিমধ্যেই ফিফার নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছে। কনকাকাফ ও এএফসিও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে আগামী নির্বাচনে তিনি টিকে থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
আগামী বছরের ১৮ মার্চ ফিফা সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীদের নাম জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। মরক্কোয় ফিফার ৭৭তম কংগ্রেসের আগেই এই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা জমে উঠবে।
সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে-
ভিক্টর মন্টগলিয়ানি: ইনফান্তিনোর মতোই ২০১৬ সালে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কনকাকাফ সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও আয়োজনের সঙ্গে তিনি গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। কানাডা ফুটবলের সাবেক প্রধান এই কর্মকর্তা প্রশাসনিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা: ২০১৩ সাল থেকে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি। ২০২৭ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার অন্যতম কঠোর সমালোচক এই বাহরাইনি নেতা।
নাসের আল-খেলাইফি: পিএসজির সভাপতি এবং ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবসের চেয়ারম্যান। ফুটবল প্রশাসনে তার প্রভাব থাকলেও বিবিসির সূত্র বলছে, তিনি ফিফা সভাপতির দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন।
মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম: বর্তমান ফিফা মহাসচিব। ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো সভাপতি হওয়ার পর তিনি তার চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন। ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ায় তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই বড় বাধা হতে পারে।
ফিফা এবার পিছু হটলেও, এই ঘটনা ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আগামী মাসগুলোতে ফুটবল বিশ্বের নজর থাকবে ফিফার পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে।