Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

অর্থকষ্টে বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি, বিতর্কের মুখে এই ফুটবলার

স্পোর্টস ডেস্ক

০১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

২০১৮ সাল। রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে বিশ্বজয়ের বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতেছিলেন ফরাসি ডিফেন্ডার বেনজামিন মেন্দি। অথচ ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! একসময় যিনি ছিলেন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডারদের একজন, আজ তিনি এতটাই আর্থিক টানাপোড়েনে ভুগছেন যে, নগদ টাকার জন্য নিজের পরম আরাধ্য সেই বিশ্বকাপজয়ের স্মারকটিও অন্যের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘গোল্ডিন’-এর আয়োজিত একটি নিলামে সম্প্রতি ট্রফিটি বিক্রি করেছেন মেন্দি। গত ২৫ জুলাই শেষ হওয়া এই নিলামে মোট ৩৮ জন ক্রেতা দর হাঁকিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৬২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৭ লাখ টাকা) বিক্রি হয়েছে এটি। ১৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই ট্রফিটি ফিফার মূল বিশ্বকাপ নয়, বরং বিশ্বজয়ী দলের সদস্য হিসেবে সম্মানসূচক রেপ্লিকা হিসেবে এটি পেয়েছিলেন তিনি। নিলামে জয়ী ক্রেতা ট্রফির সঙ্গে মেন্দির নিজের হাতে সই করা একটি সত্যতা সনদও পেয়েছেন। তবে ট্রফিটির নিচের অংশে ব্যবহারের কারণে ছোট একটি ফাটল রয়েছে বলে জানা গেছে।

কেন এই করুণ দশা মেন্দির? ২০১৭ সালে রেকর্ড ৫২ মিলিয়ন পাউন্টের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়ে চমকে দিয়েছিলেন গোটা ফুটবল বিশ্বকে। কিন্তু ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ ক্যারিয়ারের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, আর ম্যানচেস্টার সিটিও তাঁর সব ধরনের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়। যদিও ২০২৩ সালে টানা আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের রায়ে সব অভিযোগ থেকে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন, কিন্তু ততদিনে তাঁর ক্যারিয়ার ও আর্থিক মেরুদণ্ড অনেকটাই ভেঙে গেছে।

ব্রিটিশ রাজস্ব বোর্ডের কাছে প্রায় আট লাখ পাউন্ড কর বকেয়া থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে দেউলিয়া হওয়ার আবেদনও করা হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ধারদেনা মেটাতে নিজের বিলাসবহুল বাড়িটিও বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলেন এই ফরাসি তারকা। ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, মূলত নগদ অর্থের এই তীব্র অভাব মেটাতেই মেন্দি ট্রফি বিক্রির মতো কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন। শুধু বিশ্বকাপের রেপ্লিকাই নয়, নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা আরও বেশ কিছু ফুটবল স্মারক তিনি নিলামে তুলেছেন। যদিও মেন্দি নিজে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্মারক বিক্রি করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন ফরাসি এই ডিফেন্ডার। তবে সমালোচনায় বিচলিত না হয়ে স্ন্যাপচ্যাটে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। মেন্দির ভাষ্য, ট্রফিটি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তাই সেটি রাখবেন নাকি বিক্রি করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একান্তই তার। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্য কারও এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। পরে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি আরও বলেন, ট্রফিটি এতদিন আলমারিতে অযথাই জায়গা দখল করে ছিল। তাই সেটি বিক্রি করে দেওয়ায় তিনি কোনো সমস্যা দেখেন না।

ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার পর ফরাসি ক্লাব লরিয়ঁ ও সুইস ক্লাব জুরিখে খেলেছেন মেন্দি। বর্তমানে তিনি খেলছেন পোল্যান্ডের ক্লাব পোগোন শেচিনে। সম্প্রতি ম্যানচেস্টার সিটির আটকে রাখা বেতনের বড় একটি অংশ ফিরে পাওয়ার আইনি লড়াইয়ে জয় পেয়েছেন তিনি। তবে একসময়ের কোটিপতি ও বিশ্বজয়ী এক তারকার এমন আর্থিক দৈন্যদশা ও বিশ্বকাপ বিক্রির ঘটনা ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।