স্পোর্টস ডেস্ক
৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
বিশ্বকাপের সময় মাঠ ও মাঠের বাইরে একাধিক শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং দলের একাধিক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এর মধ্যে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর বিতর্কিত ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ (যা আর্জেন্টিনায় 'মালভিনাস' নামে পরিচিত) সংবলিত ব্যানার উঁচিয়ে ধরা এবং ফাইনালে স্পেনের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার পর আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠে একটি বড় ব্যানার প্রদর্শন করেন, যাতে লেখা ছিল "ফকল্যান্ড দ্বীপ আর্জেন্টিনার" (মালভিনাস বা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার)।
ফিফা তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, অরাজনৈতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা অ-ক্রীড়াসুলভ প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এর আগেও ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের জন্য ফিফা আর্জেন্টিনাকে ২০,০০০ পাউন্ড জরিমানা করেছিল।
বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচ জুড়ে আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে আরও যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে: বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ম্যাচ শুরু, নিরাপত্তা প্রোটোকল বাস্তবায়নে ব্যর্থতা, সমর্থকদের ডাগআউটে বস্তু নিক্ষেপ ও অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার পরপরই স্প্যানিশ বদলি খেলোয়াড়েরা যখন উদযাপনের জন্য মাঠে ছুটে আসেন, তখন উত্তেজিত হয়ে স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারাদেস। এর পরপরই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
এই সংঘর্ষের জেরে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ও অফিসিয়ালের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শাস্তিমূলক অভিযোগ এনেছে ফিফা। ফিফা জানিয়েছে, ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী অভিযুক্ত পক্ষগুলোকে তাদের নিজস্ব লিখিত বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি চূড়ান্ত রায় ও শাস্তির ঘোষণা দেবে।