Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনায় ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও আয়োজন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' নামের এই প্রতিষ্ঠানে বাহ্যিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন (৪২০ কোটি) ডলার মূলধন তোলার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। তবে ফিফার এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। উয়েফা অভিযোগ করেছে, বিশ্ব ফুটবলের "আত্মা" বিক্রি করতে চলেছে ফিফা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে সফলভাবে বিশ্বকাপ সম্পাদন করার পর মঙ্গলবার এই ঐতিহাসিক পরিকল্পনা সামনে আনে ফিফা। যদিও শেয়ার বিক্রি করা হবে, তবে নতুন এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ফিফার হাতেই থাকবে।

ফিফা জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠিত ভেনচার ক্যাপিটাল ফার্ম ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’-এর নতুন বিনিয়োগ মাধ্যম ‘থ্রাইভ ইটারনাল’ এই সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেবে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের এই বিনিয়োগে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এই পুরো প্রক্রিয়ার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছে বিশ্বখ্যাত ব্যাংক 'জেপি মরগান' এবং প্রাক্তন লিবার্টি মিডিয়া সিইও গ্রেগ মাফেই।

বিবৃতিতে ফিফা স্পষ্ট করেছে যে, "বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে কেবল সংখ্যালঘু শেয়ার থাকবে এবং তারা কোনো পরিচালনগত ভূমিকায় থাকবে না। উপরন্তু, তারা ফিফার কোনো অংশ কিনছে না, বরং ফিফার একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করছে। ফলে ফিফার সার্বিক পরিচালনায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।"

সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ বিশ্বজুড়ে ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে বলে জানান ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। আগামী বছর পুনরায় ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচনের দৌড়ে থাকা ইনফান্তিনো বলেন, "ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা এবং সামাজিক উন্নয়নের এক অনন্য চালিকাশক্তি। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে ফুটবলের গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করা। অবকাঠামো নির্মাণ, কোচিং, জাতীয় দল, ফুটবলের তৃণমূল পর্যায় এবং নারী ফুটবলের প্রসারে প্রতিটি সদস্য সংস্থাকে সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ডলার পর্যন্ত এককালীন ক্যাপিটাল প্রদান করা হবে, যা ২০৩৫-২০৩৮ সালের চক্রের মধ্যে ২৪ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে খেলা পরিচালন, প্রতিযোগিতার সময়সূচি এবং ক্রীড়া সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের একক কর্তৃত্ব ফিফার হাতেই সংরক্ষিত থাকবে। ফিফার এই বাণিজ্যিক উদ্যোগকে ঘিরে ফিফা এবং ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার মধ্যকার দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা নিয়েছে। উয়েফা এক কঠোর বার্তায় জানায়, ফিফা এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে যা কোনো ক্রীড়া সংস্থার অতিক্রম করা উচিত নয়।

উয়েফার বিবৃতিতে বলা হয়, "ফুটবলের মূল আত্মা এবং এর পরিচালনা ব্যবস্থা কোনো বাণিজ্যের বস্তু বা সম্পদ নয়- বিশেষ করে যেখানে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। আমরা কেউ ফুটবলের মালিক নই; ফুটবল বিক্রি করার অধিকার ফিফারও নেই।"

শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ ও রেফারিং সংক্রান্ত মতভেদের কারণে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি দেখতে মাঠে উপস্থিত হওয়া থেকেও বিরত ছিলেন।

ফিফার এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ তিনি লেখেন, "বিশ্বকাপ কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্য নয়। এটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট, আর এটি কারো বিক্রি করার জিনিস ছিল না। এই চুক্তিকে যেভাবে খুশি সাজান না কেন, একবার যদি এর কোনো অংশ বিক্রি করে দেওয়া হয়, তবে আপনি আসলে বিক্রিই হয়ে গেলেন।"

নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রিচার্ড শিহান এই পরিকল্পনাকে ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের "অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা" বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবার জন্য ফুটবল উন্মুক্ত করার যে দাবি ফিফা করে, তার সাথে এই উদ্যোগ পুরোপুরি একটি 'প্রহসন'। শীঘ্রই ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এবং ফিফা কাউন্সিলের সামনে এই প্রস্তাব পেশ করা হবে, যেখানে ভোটের মাধ্যমেই এর চূড়ান্ত অনুমোদন নির্ধারিত হবে।